হারারেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ গড়েছে জিম্বাবুয়ে। ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্রেইগ আরভিন ও সিকান্দার রাজার অর্ধশতকে ভর করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করেছে স্বাগতিকরা। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচ জিততে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৭২ রান।
তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ব্যাট হাতে যে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে, তাতে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়াকেও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ের শুরুটা অবশ্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। স্পেন্সার জনসন ও জাভিয়ের বার্টলেট নতুন বলে সুইং আদায় করে নেন। প্রথম ছয় ওভারে ৩৪ রান তুললেও এরপর দ্রুত দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
বেন কারান ৭ রান করে জনসনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁর সাম্প্রতিক ব্যর্থতার ধারাটাও অব্যাহত থাকে। এরপর ব্রায়ান বেনেট কিছু দারুণ শট খেললেও এলিসের বলে মিডউইকেটে ট্রাভিস হেডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন। পাওয়ারপ্লে শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৫৭/২।
ব্রেন্ডন টেলরও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৬ বলে ৯ রান করে অ্যাডাম জাম্পার ফ্লিপারে বোল্ড হন তিনি। ফলে জিম্বাবুয়ের ওপর আবারও চাপ তৈরি হয়।
সেখান থেকে ইনোসেন্ট কাইয়া ও ক্রেইগ আরভিন পরিস্থিতি সামাল দেন। শুরুতে কিছুটা সতর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন কাইয়া। রেনশকে মিড-অন দিয়ে ড্রাইভ এবং জনসনকে পুল করে বাউন্ডারি আদায় করেন তিনি। ৫৯ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন কাইয়া , ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর ওয়ানডেতে তাঁর প্রথম ফিফটি।
আরভিনের সঙ্গে তাঁর জুটি ৮০ রান পর্যন্ত গড়ায়। ২৯তম ওভারে অবশ্য হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে বিপাকে পড়েন কাইয়া। রান নেওয়ার সময় মাটিতে পড়ে যান তিনি। চিকিৎসা নিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও মাত্র দুই বল খেলে শেষ পর্যন্ত আর চালিয়ে যেতে পারেননি। ৫৫ রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ছাড়েন তিনি।
কাইয়ার জায়গায় ক্রিজে আসেন সিকান্দার রাজা। শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা তাঁকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন। বার্টলেটের আউটসুইংয়ে কয়েকবার পরাস্ত হন রাজা। এলিসের বলে আরভিনের ব্যাটের কানায় লাগা বলও অল্পের জন্য উইকেটরক্ষক জশ ইংলিসের নাগালের বাইরে চলে যায়।
একপর্যায়ে রেনশর বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনেও বেঁচে যান রাজা। তবে এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন তিনি। জাম্পাকে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে চাপমুক্ত হন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন।
অন্য প্রান্তে আরভিনও নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন। জাম্পার বলে এক রান নিয়ে ৬৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। রাজা ও আরভিনের জুটিতে জিম্বাবুয়ের রান ২০০ পেরিয়ে যায় ৪০তম ওভারে। তখন মনে হচ্ছিল, স্বাগতিকদের স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কিন্তু শেষ ১০ ওভারে ম্যাচে ফিরে আসে অস্ট্রেলিয়া। রেনশর বলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে ৫৯ রানে ফেরেন আরভিন। পরের ওভারেই এলিসের ধীরগতির বলে কভারে ক্যাচ দেন ওয়েসলি মাধেভেরে। দুই ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
ব্র্যাড ইভান্স কিছুটা ঝড় তোলার চেষ্টা করেন। জনসনের ওভারে টানা দুটি চার মারলেও পরের বলে শর্ট বল তুলে দিয়ে দ্বিতীয় উইকেটটি তুলে দেন এই পেসারের হাতে। এরপর আট বছর পর ওয়ানডেতে ফেরা গ্রায়েম ক্রেমার নিজের ৪০তম জন্মদিনের পরদিনই উইকেট হারান এলিসের নিখুঁত ইয়র্কারে।
একপ্রান্তে অবশ্য অবিচল ছিলেন রাজা। ৪৬তম ওভারের শুরুতে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এরপর শেষ দিকের ওভারগুলোতে যতটা সম্ভব স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। এলিসের শেষ ওভারেই ১২ রান তুলে দলকে ২৭১ পর্যন্ত নিয়ে যান।
শেষ পর্যন্ত ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন রাজা। তাঁর সঙ্গে জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কাইয়া ও আরভিন। তিন ব্যাটারের অর্ধশতকেই গড়ে ওঠে স্বাগতিকদের এই সংগ্রহ।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল নাথান এলিস। ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। স্পেন্সার জনসনও ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে পান ২ উইকেট। অ্যাডাম জাম্পা ৪৩ রানে নেন ২ উইকেট। জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের মাঝের ও শেষ ওভারে বড় সংগ্রহে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তবু শেষ পর্যন্ত ২৭১ রান জিম্বাবুয়ের জন্য খারাপ সংগ্রহ নয়। বিশেষ করে ১৪৮ রানে ২ উইকেট থেকে ২০৬ রানে ৩ উইকেট পর্যন্ত তারা বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। সেখান থেকে শেষ ১০ ওভারে আরও কিছু রান যোগ করতে পারলে ৩০০-এর কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব ছিল। তবে রাজা শেষ পর্যন্ত একপ্রান্ত ধরে রাখায় সম্মানজনক সংগ্রহ পেয়েছে স্বাগতিকরা।
এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৭২ রানের লক্ষ্য। সিরিজ ইতোমধ্যেই ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত হলেও শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের সামনে ঘরের মাঠে সান্ত্বনার জয় তুলে নেওয়ার সুযোগ। আর অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য হবে সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে শেষ করা।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
জিম্বাবুয়ে — ২৭১/৮, ৫০ ওভার
সিকান্দার রাজা ৮১*, ক্রেইগ আরভিন ৫৯, ইনোসেন্ট কাইয়া ৫৫ (রিটায়ার্ড হার্ট); নাথান এলিস ৩/৫০, স্পেন্সার জনসন ২/৫০, অ্যাডাম জাম্পা ২/৪৩।
অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য — ২৭২ রান।
সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে।




