বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তিন সংস্করণকে এক কাঠামোর আওতায় এনে ছয় দল নিয়ে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক প্রতিযোগিতা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। রোববার বর্তমান বোর্ডের চতুর্থ সভায় এ পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়।
নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা, বিসিএলের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট এবং জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি। এই তিন প্রতিযোগিতাকে একটি অভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোর মধ্যে আনা হবে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় দেশের প্রতিষ্ঠিত করপোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ছয়টি দলের মালিকানা স্বত্ব দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য এই মালিকানা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। নতুন কাঠামোর প্রথম ধাপ হিসেবে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি যুগের সূচনা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরেই প্রতিযোগিতাটি মাঠে গড়াবে।
ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো বদলের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিও নতুন করে নির্ধারণ করেছে বিসিবি।
পুরুষ ক্রিকেটাররা চার দিনের ম্যাচে পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ওয়ানডেতে ১ লাখ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা। এনসিএলের দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচের জন্য ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।
নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে ম্যাচ ফি। তিন দিনের ম্যাচে তারা পাবেন ৪০ হাজার টাকা, ওয়ানডেতে ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা।
এদিকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দৈনিক ভাতাও দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে যেখানে দৈনিক ১০ হাজার টাকা দেওয়া হতো, এখন থেকে তা বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকায়।
শুধু ঘরোয়া প্রতিযোগিতার কাঠামো নয়, ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমি মাঠে আন্তর্জাতিক মানের, আইএএএফ অনুমোদিত অ্যাথলেটিক রানিং ট্র্যাক নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিন লেনের এই বিশেষায়িত ট্র্যাক ক্রিকেটারদের দৌড়, ফিটনেস অনুশীলন এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হবে।
শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুটি বিকল্প ড্রেসিংরুম, খেলোয়াড়দের প্রবেশ এলাকা এবং কমন লবি উন্নয়নের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বোর্ড।
এর পাশাপাশি মিরপুর স্টেডিয়ামে আরও দুটি নতুন ড্রেসিংরুম নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, অনুশীলন ম্যাচ ও অন্যান্য ক্রিকেট কার্যক্রমে নতুন ড্রেসিংরুমগুলো ব্যবহার করা হবে। ফলে প্যাভিলিয়ন ভবনের বর্তমান ড্রেসিংরুমগুলো মূলত আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও এগিয়েছে বিসিবি। স্টেডিয়ামটির প্রস্তাবিত সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য স্থাপত্য, প্রকৌশল এবং প্রকল্প প্রস্তুতিতে পরামর্শ দিতে একজন কনসালট্যান্ট নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড।
সব মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামো চালু, খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি বৃদ্ধি এবং ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বিসিবি। ডিসেম্বরের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ছয় দলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোর মাঠের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


