কুশলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বড় সংগ্রহ গড়েছে শ্রীলঙ্কা। হেডিংলির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে অধিনায়কের ১২১ রানের ঝোড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২১ রান করেছে সফরকারীরা। ফলে ম্যাচ জিততে ইংল্যান্ডকে করতে হবে ৩২২ রান।
চলতি সফরে ব্যাট হাতে খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না শ্রীলঙ্কা। তবে হেডিংলিতে এসে নিজেদের অন্যতম সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে দলটি। কুশল মেন্ডিসের সেঞ্চরির পাশাপাশি একাধিক ব্যাটারের কার্যকর ইনিংসে বড় সংগ্রহের ভিত পায় তারা।
কুশলের ব্যাটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
শ্রীলঙ্কার ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। ৮২ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১২১ রান করে ফেরেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
শুরুতে অবশ্য তাঁর ইনিংস থেমে যেতে পারত মাত্র ১৮ রানেই। কুশলের উঁচু ক্যাচ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও সেটি হাতছাড়া করেন ইংল্যান্ডের গাস অ্যাটকিনসন। জীবন ফিরে পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাননি শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক।
ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করেন কুশল। জশ টাংয়ের এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মেরে মোট ১৯ রান আদায় করে নেন তিনি। পুরো সফরে শ্রীলঙ্কার জন্য এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ওভার।
কুশল-কামিন্দুর বড় জুটি
শুরুতে পাথুম নিশাঙ্কা ২৫ রান করে আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন কুশল মেন্ডিস। এরপর কামিন্দু মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়েন তিনি।দুজন মিলে মাত্র ১২০ বলে ১৩৭ রান যোগ করেন। এই জুটিই শ্রীলঙ্কাকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায়। কামিন্দু ৫৪ রান করে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এই জুটি ভাঙার সময় শ্রীলঙ্কার স্কোর ২০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় এবং তখন তাদের সামনে ৩৪০ রানের আশপাশে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।
শেষ দিকে রাথনায়েকে-লিয়ানাগের কার্যকর ব্যাটিং
কামিন্দু আউট হওয়ার পর কুশল মেন্ডিস ও পাভান রাথনায়েকে মিলে আরও ৪০ রান যোগ করেন। তবে ব্যক্তিগত ১২১ রানে পৌঁছে বেশি সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। রেহান আহমেদের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
কুশল ফেরার পর কিছুটা মন্থর হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার রান তোলার গতি। তবে পাভান রাথনায়েকে ও জনিথ লিয়ানাগে শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে পরিস্থিতি সামলে নেন।
শেষ ১০ ওভারে ৮৪ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। রাথনায়েকে করেন ৪৮ রান, আর লিয়ানাগের ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান। ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩২১ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ দাঁড় করায় সফরকারীরা।
ইংল্যান্ডের সামনে কঠিন লক্ষ্য
শ্রীলঙ্কার হয়ে গাস অ্যাটকিনসন ও রেহান আহমেদ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। জোফ্রা আর্চারও একটি উইকেট পেয়েছেন। হেডিংলির উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো হওয়ায় ইংল্যান্ডের সামনে রান তাড়ার সুযোগ থাকছে। তবে ৩২২ রানের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে স্বাগতিকদের ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে হবে।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এখন ইংল্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, কুশল মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে পাওয়া ৩২১ রানের পাহাড় টপকে জয় তুলে নেওয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
শ্রীলঙ্কা: ৩২১/৬ (৫০ ওভার)
- কুশল মেন্ডিস — ১২১
- কামিন্দু মেন্ডিস — ৫৪
- পাভান রাথনায়েকে — ৪৮
- জনিথ লিয়ানাগে — ৩২
- পাথুম নিশাঙ্কা — ২৫
ইংল্যান্ডের বোলিং:
- গাস অ্যাটকিনসন — ২ উইকেট
- রেহান আহমেদ — ২ উইকেট
- জোফ্রা আর্চার — ১ উইকেট
লক্ষ্য: ইংল্যান্ডকে জিততে ৩২২ রান করতে হবে।




