বাংলাদেশ ফুটবল লিগ শুরুর দুই রাউন্ড না পেরোতেই হোম ভেন্যু নিয়ে সমস্যায় পড়েছে দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম ব্যবহারে জটিলতা তৈরি হওয়ায় দুই দলেরই হোম ভেন্যু পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু ম্যাচ আয়োজনের স্থানই নয়, লিগের সূচি ব্যবস্থাপনাতেও নতুন করে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফুটবল লিগের এবারের আসরে আবাহনী ও মোহামেডানের হোম ম্যাচগুলো কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু স্থানীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ স্টেডিয়ামটি অন্য প্রতিযোগিতার জন্য ব্যবহার করতে চাওয়ায় পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। ফলে বাকি ম্যাচগুলো আয়োজনের জন্য বিকল্প মাঠ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে বাফুফে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবাহনী লিমিটেড তাদের অবশিষ্ট হোম ম্যাচ খেলবে ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নতুন হোম ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম।
ভেন্যু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যে পড়েছে মোহামেডানের পরবর্তী ম্যাচের সূচিতেও। আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিপক্ষে শুক্রবার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচটি এক দিন পিছিয়ে শনিবার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, ম্যাচটি হবে মুন্সিগঞ্জে।
লিগের শুরুতেই এমন পরিবর্তন ক্লাবগুলোর প্রস্তুতি ও ম্যাচ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠ প্রস্তুত রাখা, দলগুলোর যাতায়াত এবং ম্যাচ আয়োজনের অন্যান্য বিষয় নতুন করে সমন্বয় করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
মোহামেডান তাদের বাকি হোম ম্যাচগুলো মুন্সিগঞ্জে আয়োজন করলে চলতি মৌসুমে ওই মাঠকে নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করবে মোট তিনটি ক্লাব। এতে ম্যাচ আয়োজনের সময়সূচি নির্ধারণ করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
একটি মাঠে একাধিক দলের হোম ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ম্যাচের দিন ও সময়ের সমন্বয়। কোন দল কখন মাঠে নামবে, কোন ম্যাচের আগে মাঠ প্রস্তুত করা হবে এবং পরপর ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ কতটা রয়েছে, এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই সূচি সাজাতে হবে।
ফ্লাডলাইট না থাকায় বাড়ছে সূচির চাপ
মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট না থাকায় একই দিনে সেখানে দুটি ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়। ফলে একাধিক ক্লাবের হোম ম্যাচ একই ভেন্যুতে পড়লে সূচি তৈরির ক্ষেত্রে বাড়তি সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হবে আয়োজকদের।
ফ্লাডলাইটের সুবিধা থাকলে দিনের বিভিন্ন সময়ে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ বাড়ত। কিন্তু সেই ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিটি ম্যাচের জন্য আলাদা দিন নির্ধারণ করতে হতে পারে। এতে লিগের অন্য ম্যাচগুলোর সূচিতেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
আবাহনী ও মোহামেডানের হোম ভেন্যু পরিবর্তনের কারণে বাফুফেকে তাই শুধু নতুন মাঠ নির্ধারণ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাচ্ছে না; একই সঙ্গে পুরো সূচির সঙ্গে নতুন ভেন্যুগুলোর সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে হবে।
একটি দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল লিগ পরিচালনায় নির্ধারিত হোম ভেন্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দলগুলো মাঠের অবস্থান, যাতায়াত, অনুশীলন এবং ম্যাচের সময় বিবেচনায় রেখে নিজেদের প্রস্তুতি পরিকল্পনা সাজায়। কিন্তু লিগ শুরুর পর ভেন্যু পরিবর্তন হলে সেই পরিকল্পনায়ও সমন্বয় আনতে হয়।
আবাহনীকে ময়মনসিংহে এবং মোহামেডানকে মুন্সিগঞ্জে হোম ম্যাচ খেলতে হওয়ায় দুই দলের জন্যই নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসবে। একই সঙ্গে আয়োজকদের নিশ্চিত করতে হবে, ভেন্যু পরিবর্তনের কারণে যেন লিগের সামগ্রিক সূচি ও ম্যাচ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অযথা ব্যাহত না হয়।
কুমিল্লার স্টেডিয়াম ব্যবহারে জটিলতা তৈরি হওয়ায় আপাতত বিকল্প ভেন্যুতে নির্ভর করতে হচ্ছে বাফুফেকে। তবে একই মাঠে একাধিক ক্লাবের হোম ম্যাচ এবং ফ্লাডলাইটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সূচি কীভাবে সাজানো হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


