আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটা ভালোই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলামের ব্যাটে আসে ১২৪ রানের জুটি। তবে মাঝের দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। শেষদিকে লিটন দাসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
শুক্রবার টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তানজিদ। অন্য প্রান্তে সাদমান খেলেন ধীরস্থিরভাবে। দুজনের ব্যাটে প্রথম সেশনেই ভালো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
মাত্র ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৩ রান করেন তানজিদ। তবে সেঞ্চুরি থেকে ১৭ রান দূরে থাকতে ইসমত আলমের বলে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
তানজিদ ফেরার পরও নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাটিং চালিয়ে যান সাদমান। ১১১ বলে ৭টি চারে ৬৭ রান করেন এই ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে তাঁর জুটি থেকে আসে ৬০ রান। ১৮৪ রানে জিয়া-উর-রেহমান আকবরের বলে আউট হন সাদমান।
এরপর মুমিনুলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক শান্ত। তবে বড় জুটি গড়তে পারেননি তাঁরা। ৭০ বলে চারটি চারে ৩৯ রান করে মুমিনুল ফিরলে ২২১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর দ্রুতই ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসে। ২২৩ রানে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। দুই রান যোগ হতেই কায়েস আহমদের বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন শান্ত। ৪২ বলে ২৯ রান করেন অধিনায়ক। ২২৫ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন লিটন দাস। মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন তিনি। তাঁদের জুটিতে আড়াই শ রান পেরোয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। ২৪ রান করে মিরাজ ফিরলেও লিটন চালিয়ে যান লড়াই। তুলে নেন অর্ধশতকও। তবে দিনের শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ৫৩ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর হাসান মাহমুদ মাত্র ২ রান করে আউট হন। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় নাইম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। ফলে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩১৭ রান।
আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সেলিম। ৭০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ইসমত আলম ও ইয়ামিন আহমদজাই দুটি করে উইকেট শিকার করেন।


