৪ বছর পর ভারতীয় দলে ভুবনেশ্বর, আশায় আছেন মোহাম্মদ শামি।

মোহাম্মদ শামির সাক্ষাৎকার

নিউজিল্যান্ড সফরের আসন্ন দলে জায়গা না পেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আশা ছাড়েননি ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি। তাঁর দাবি, তিনি পুরোপুরি ফিট এবং বল হাতেও ভালো ছন্দে রয়েছেন। নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি মোহাম্মদ শামির। তবে জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন এখনো দেখছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। তাঁর বিশ্বাস, তিনি এখনও নিজের সেরা সময়ে রয়েছেন, পুরোপুরি ফিট এবং ভালো ছন্দে বোলিং করছেন, তাই ৪ বছর পর ভুবেনেশ্বর দলে ডাক পাওয়ায় এখনও আশায় আছেন মোহাম্ম শামি।

বেঙ্গল ও সার্ভিসেসের মধ্যকার রঞ্জি ট্রফির ম্যাচ শেষে শামি বলেন, “আমি কেন আশা ছেড়ে দেব? আশা তো সব সময়ই থাকা উচিত। যেকোনো পেশায় মানুষের আশা ছাড়া উচিত নয়। সব সময় একটা লক্ষ্য থাকা দরকার। আমরা যদি রঞ্জি ট্রফি খেলি, তাহলে রাজ্যকে শিরোপা জেতানোই তো আমাদের লক্ষ্য। আমারও সেই লক্ষ্য রয়েছে, এটা আমি অস্বীকার করছি না।”

শামি সর্বশেষ ভারতের হয়ে খেলেছেন ২০২৫ সালের মার্চে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ওই আসরে বরুণ চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথভাবে ভারতের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন তিনি। দুজনই নিয়েছিলেন ৯টি করে উইকেট। এরপর থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের তিন সংস্করণ এবং আইপিএলে খেলেছেন শামি। তবে মনে হচ্ছে, নির্বাচকেরা তাঁকে আপাতত জাতীয় দলের পরিকল্পনার বাইরে রেখেছেন।

দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে হতাশ নন শামি: নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তনের পর নতুন নির্বাচক কমিটির অধীনে শামির দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ড সফরের টেস্ট ও ওয়ানডে দল ঘোষণা করা হলে সেখানে আবারও অনুপস্থিত তিনি।

দলে জায়গা না পাওয়ায় হতাশ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামি বলেন, “বিষয়টা হতাশার নয়। গত মৌসুমেও আমি সব ম্যাচ খেলেছি। আমার লক্ষ্য হলো, সামনে যত বেশি সম্ভব টুর্নামেন্টে খেলা। “কখন কাকে প্রয়োজন হবে, তা কেউ জানে না। নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেললে আইপিএলের প্রস্তুতিও ভালো হবে। যত বেশি ম্যাচ খেলব, ততই আমার ছন্দ ভালো থাকবে। দলের সঙ্গে থাকলে পরিবেশও ভালো থাকে। আমি এসব বিষয় মাথায় রেখেই এগোচ্ছি।”

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স: ভারতের ঘরোয়া মৌসুমের শুরুতে দলীপ ট্রফির তিনটি ম্যাচেই খেলেছেন শামি। সেখানে মোট ৭টি উইকেট নিয়েছেন, যার মধ্যে সেমিফাইনালে ছিল পাঁচ উইকেটের দুর্দান্ত কীর্তি। তবে এরপর অনুষ্ঠিত ইরানি কাপে রেস্ট অব ইন্ডিয়া দলে জায়গা পাননি তিনি। রঞ্জি ট্রফির প্রথম রাউন্ডে দিল্লির বিপক্ষে পাঁচটি উইকেট নেন শামি। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণও দেন। কিন্তু সার্ভিসেসের বিপক্ষে বাংলার দ্বিতীয় রঞ্জি ম্যাচে তাঁকে মাঠে দেখা যায়নি। এর কারণ মানে তাঁর ফিটনেসের সমস্যা নয়। স্পিন-সহায়ক উইকেটে তরুণ বোলারদের সুযোগ করে দিতেই তিনি ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিন দিনে শেষ হওয়া ওই ম্যাচ চলাকালে মাঠের পাশের নেটে তাঁকে নিয়মিত ব্যাটিং ও বোলিং অনুশীলন করতে দেখা যায়।

আমি এখনও নিজের সেরা ছন্দে আছি

নিজের ফিটনেস নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে শামি বলেন, “আমি এখনও নিজের সেরা পর্যায়ে আছি। আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। আজও অনুশীলন করেছি, গতকালও করেছি। আপনারা তো উইকেটের অবস্থা দেখেছেন, তাই না? এই উইকেটে দুই থেকে চার ওভার বোলিং করার কোনো অর্থ ছিল না। বরং তরুণদের সুযোগ দেওয়াই ভালো ছিল। তারা যত বেশি খেলবে, তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।

“আমার লক্ষ্য হলো, যখন দলের আমাকে প্রয়োজন হবে, তখন যেন খেলতে পারি। আমার মনে হয় না, এই ম্যাচে সত্যিই আমাকে খুব একটা দরকার ছিল। অবশ্য আমি তো আর ব্যাটার হিসেবে খেলতে পারি না।”

লম্বা স্পেলে বোলিং করতে পারছেন কি না, সে বিষয়ে বাইরের মানুষের মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শামি। তাঁর ভাষায়, “আমি কতক্ষণ বোলিং করব, সেটা বাইরের কেউ কীভাবে ঠিক করে দিতে পারে? বিষয়টি নির্ভর করে দলের প্রয়োজনের ওপর। এমন নয় যে আমি একের পর এক ওভার বোলিং করতেই থাকব। “এই ধরনের উইকেটে একজন পেসার পাঁচ বা দশ ওভার বোলিং করবে, তা আগে থেকে কীভাবে পরিকল্পনা করা সম্ভব? ব্যাটারদের সমস্যা হলে পেসার বোলিং করবে। আবার স্পিনার উইকেট পাবে বলে মনে হলে স্পিনারকেই বোলিং করানো হবে। সবকিছু নির্ভর করে ম্যাচের পরিস্থিতি ও পিচের অবস্থার ওপর। সিদ্ধান্তটা অধিনায়কের।”

নির্বাচকদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই

নতুন নির্বাচক প্রধানের অধীনে নির্বাচক কমিটির কারও সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলেও জানান শামি। কারণ, তিনি এখন ভারতীয় দলের অংশ নন। তবে প্রায় ৪ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে যাওয়া ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তনে খুশি তিনি। শামি বলেন, “ভুবনেশ্বর যেভাবে পারফর্ম করেছে, তাতে তার নির্বাচন আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।”

বাংলার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা

ঘরোয়া ক্রিকেট এবং বাংলার ক্রিকেটের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন শামি। তিনি বলেন, “আমি জানি না ভবিষ্যতে কী হবে, আর কী হবে না। তবে একজন খেলোয়াড়ের জন্য ঘরোয়া মৌসুম শুরু হওয়ার চেয়ে ভালো খবর আর কিছু হতে পারে না। ছন্দ ফিরে পাওয়ার জন্য এটাই সেরা মঞ্চ। সিনিয়র হোক কিংবা জুনিয়র-যে-ই খেলার সুযোগ পাবে, তার উচিত ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করা।”

বাংলা দলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে শামি আরও বলেন, “বাংলা দলই আমাকে পরিচিতি দিয়েছে। আজ আমাকে ঘিরে এত ক্যামেরা, এত প্রশ্ন-এমনকি আমাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা-সবকিছুর পেছনেই এই দল রয়েছে।

“আমি যখনই ক্যারিয়ার শেষ করব, এই দলের হয়েই কাজ করব। সেটা যে পর্যায়েই হোক না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না। একজন খেলোয়াড়ের মধ্যে আনুগত্য ও পরিশ্রম থাকা উচিত। আমি সেটাই করে যাচ্ছি। কারণ, এই বিষয়গুলোই আমার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি কিছু আমার হাতে নেই। তাই শুধু খেলে যেতে চাই-এটাই আমার ভাবনা।”

২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই ভাবতে চান না: ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি শামি। তিনি বলেন, “আমি এত দূরের কথা ভাবি না। জীবনে কখন কী হবে, তা কেউ জানে না। কে রান করবে, কে উইকেট নেবে-সেটাও আগে থেকে বলা যায় না। তাই এত দূরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবে লাভ নেই। “শুধু ম্যাচ খেলে যেতে হবে, নিজের খেলায় উন্নতি করতে হবে। আমি সব সময় বলি, আমার মনোযোগ থাকা উচিত দক্ষতা ও ফিটনেসের ওপর। ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি চিন্তা করে নিজের ওপর চাপ তৈরি করতে চাই না।

“এই মুহূর্তে আমি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাচ্ছি এবং খেলাটা উপভোগ করছি। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের এখনও অনেক সময় বাকি।”

সারকথা: শামির বার্তা স্পষ্ট ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে এখনই দুশ্চিন্তা করতে চান না তিনি। বরং ফিটনেস ধরে রেখে, নিয়মিত ম্যাচ খেলে এবং নিজের বোলিংয়ের ছন্দ বজায় রেখে সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে চান এই অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসার।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles