জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৩ ও ৯ রান। তবে সেই ব্যর্থতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং নিজেকে প্রমাণের জেদ নিয়ে অপেক্ষা করেছেন পরের সুযোগের। আর ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই খেললেন অবিস্মরণীয় এক ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ২৪২ রান করে গড়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় সাজানো হৃদয়ের এই ইনিংস ছাড়িয়ে গেছে মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রানকে। এক ইনিংসে ১১ ছক্কা মেরে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
রেকর্ড গড়ার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে হৃদয় বলেছেন, এমন একটি ইনিংস খেলার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা নিশ্চিতভাবেই আমার একটি স্বপ্ন ছিল। স্বপ্নটা সত্যি হওয়ায় আমি দারুণ আনন্দিত। হয়তো প্রত্যাশার চেয়েও একটু আগেই তা ধরা দিয়েছে। সবকিছুর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
এই অর্জনের পেছনে রয়েছে অভিষেকের ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয় লিখেছেন, ‘অভিষেক নিয়ে স্বপ্ন ছিল অনেক। কিন্তু ব্যর্থতা ও হতাশায় জেদ চেপেছিল খুব। তবে বিশ্বাস ছিল আল্লাহ এবং নিজের পরিশ্রমের প্রতি। মহান আল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি আশা পূরণ করলেন। আলহামদুলিল্লাহ।’
১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারানোর পরও হাল ছাড়েননি হৃদয়। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ১১৭ এবং তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। শেষ তিন উইকেটে বাংলাদেশের যোগ করা ২০২ রানের মধ্যে হৃদয়ের অবদান ১৬১।
সতীর্থদের কৃতিত্ব দিয়ে হৃদয় বলেন, ‘ওরা যেভাবে আমাকে সঙ্গ দিয়েছে, তা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।’
ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের প্রয়োজনকেই বড় করে দেখছেন এই ব্যাটসম্যান। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর কথা, ‘আপাতত নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নেই, দলের যা প্রয়োজন, সেটা করে যেতে চাই।’


