বাংলাদেশের হতাশার দিনে ৩১৫ রানের লিড উইন্ডিজের

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনটি দুঃস্বপ্নের মতো কাটল বাংলাদেশের বোলারদের। ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাভেম হজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং কেভিন উইকহ্যামের সঙ্গে তার বড় জুটিতে তিনশ ছাড়িয়েছে ক্যারিবীয়দের লিড।

রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা বন্ধ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এতে বাংলাদেশের চেয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে। হাতে রয়েছে আরও ৭ উইকেট।

দিনের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে সফরকারীরা। প্রথম সেশনে ৩০ ওভারে ১২১ রান যোগ করে তারা। এই সেশনে ৩৬ রান করা জশুয়া ডা সিলভাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাইজুল ইসলাম। এরপর ৬১ রান করা ব্রেন্ডন কিংকে সাজঘরে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ।

তবে এরপর আর কোনো উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে ক্রিজে এসে অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কাভেম হজ। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ১৬৫ রান। দ্বিতীয় সেশনে ২৮ ওভারে আসে ১৩১ রান। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে হজ ৯৩ এবং উইকহ্যাম ৬৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

বিরতির পর সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হজ। অন্যদিকে ৭৮ রান করে তাইজুলের বলে আউট হন উইকহ্যাম। অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই অর্ধশতক তুলে নিয়ে বিশেষ কীর্তি গড়েছেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার।

উইকহ্যাম ফিরলেও থামেনি হজের ব্যাট। নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ১৮৯ বলে ১৪০ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন এই ব্যাটার। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আমির জাঙ্গু ২০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।

চতুর্থ দিনে মোট ৭৯ ওভার ব্যাট করে ৩৩৮ রান যোগ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল নিয়েছেন দুটি এবং মিরাজ একটি উইকেট। বাকি বোলাররা ছিলেন নিষ্প্রভ।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ৩৮৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয়দের ব্যাটিং তাণ্ডবে সেই সুবিধা এখন অনেকটাই ম্লান।

টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ২১৫ রান। ২০০৯ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই এই রান পেরিয়ে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সিলেটে জিততে হলে নিজেদের সেই রেকর্ড ভাঙতে হবে টাইগারদের। তবে পঞ্চম দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে এখনো সাত উইকেট থাকায় বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। ক্যারিবীয়রা কখন ইনিংস ঘোষণা করে এবং শেষ পর্যন্ত লিড কত বড় করে, সেটিই এখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles