কিছুদিন আগে ইন্ডিয়ান ওয়েলস এর সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিলেন কার্লোস আলকারাজ । সেখানে তাঁকে হারিয়েছিলেন রাশিয়ার দানিল মেদভেদেভ। অনেকেই ভেবেছিলেন, মায়ামি ওপেন এ হয়তো ঘুরে দাঁড়াবেন স্প্যানিশ তারকা। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন। ফর্মহীনতার ছাপ কাটাতে পারলেন না তিনি। টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হলো তাঁকে।
এই ম্যাচে আলকারাজকে হারিয়ে চমক দেখালেন আমেরিকার সেবাস্টিয়ান কর্ডা। বিশ্বের ৩৬ নম্বরে থাকা এই খেলোয়াড় তিন সেটের লড়াইয়ে ৬-৩, ৫-৭, ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নেন। প্রায় ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের এই টানটান লড়াইয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল স্নায়ুচাপের ছাপ। তবে শেষ পর্যন্ত দৃঢ়তা দেখিয়ে কোর্ট ছাড়েন কর্ডা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন কর্ডা। প্রথম সেটে তাঁর সার্ভিস ছিল অসাধারণ ধারালো। পুরো ম্যাচে তিনি ১২টি এস করেন, যা আলকারাজের জন্য বড় চাপ তৈরি করে। অন্যদিকে, আলকারাজ শুরু থেকেই কিছুটা ছন্দহীন ছিলেন। বিশেষ করে তাঁর ফোরহ্যান্ডে একের পর এক ভুল দেখা যায়, যা তাঁকে প্রথম সেটে পিছিয়ে দেয়।
দ্বিতীয় সেটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন আলকারাজের
দ্বিতীয় সেটে অবশ্য ম্যাচের রং বদলাতে শুরু করে। কর্ডা তখন ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ শেষ করার দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। নিজের সার্ভিস গেমে ম্যাচ পয়েন্টের সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু ঠিক সেখানেই লড়াই নাটকীয় মোড় নেয়। আলকারাজ ‘ব্রেক’ ব্যাক করে ম্যাচে ফেরেন এবং সেটটি ৭-৫ ব্যবধানে জিতে নেন। সেই সময় মনে হচ্ছিল, হয়তো ম্যাচটি পুরোপুরি ঘুরে যেতে পারে।
নির্ণায়ক সেটে ব্রেকেই ম্যাচের মোড় ঘোরান কর্ডা
তবে আসল উত্তেজনা জমে ওঠে তৃতীয় ও শেষ সেটে। দুই খেলোয়াড়ই তখন অনেক বেশি সতর্ক ও মনোযোগী। প্রতিটি পয়েন্টের জন্যই তীব্র লড়াই হচ্ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এগিয়ে যান কর্ডা। ৪-৩ অবস্থায় তিনি আলকারাজের সার্ভ থেকে পয়েন্ট তুলে নেন। (টেনিসে এক খেলোয়াড়ের সার্ভ থেকে অন্য খেলোয়াড় পয়েন্ট পেলে তাকে ব্রেক বলা হয়।) যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর আর কোনো ভুল করেননি তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচ পয়েন্টেই একটি অনরিটার্নেবল সার্ভে ম্যাচ শেষ করেন কর্ডা।
ম্যাচ শেষে কর্ডা বলেন, “খুব সহজ একটা ম্যাচ প্রায় কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তবে আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত নিজের খেলাটা খেলতে পেরেছি।” এই জয় কর্ডার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন, কারণ এটি ছিল র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর খেলোয়াড়ের বিপক্ষে তাঁর পাওয়া প্রথম জয়।
অন্যদিকে, এই হার আলকারাজের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করা এই তারকা মায়ামিতে আসার আগে দারুণ ফর্মে ছিলেন। ১৭ ম্যাচে ১৫টির বেশি জয় ছিল তাঁর ঝুলিতে। তবুও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বারবার ভুল, বিশেষ করে আনফোর্সড এরর, তাঁকে পিছিয়ে দিয়েছে।
অবশ্য, মায়ামি ওপেনে আলকারাজের জন্য হতাশা নতুন নয়। ২০২২ সালে এখানে শিরোপা জিতলেও, গত বছর দ্বিতীয় রাউন্ডেই তাকে বিদায় নিতে হয়েছিল। এবারও সেই হতাশার পুনরাবৃত্তি হলো। এখন তাঁর নজর থাকবে ক্লে কোর্ট মৌসুমে, যার সূচনা হবে মন্টে কার্লো মাস্টার্স দিয়ে।
অন্যদিকে, এই জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কর্ডা এখন শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারেন রাশিয়ার কারেন (Karen Khachanov) কিংবা স্পেনের মার্টিন ল্যান্ডালুসে (Martin Landaluce)। সব মিলিয়ে, এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলেন কর্ডা।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














