সরকারের ক্রীড়া কার্ডকে ‘আমিনুল কার্ড’ বললেন জামাল ভূঁইয়া । দ্বিতীয় ধাপে ক্রীড়া ভাতা কার্ড বিতরণ কার্যক্রম গতকাল সম্পন্ন হলেও বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে আজ সকালে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের বাসভবনে গিয়ে নিজের ক্রীড়া ভাতা কার্ড গ্রহণ করেন। এই উদ্যোগটি দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে খেলে আসছেন জামাল ভূঁইয়া। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে নিয়মিত পারফর্ম করে তিনি নিজেকে দলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এতদিন পর্যন্ত দেশের ফুটবলাররা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নিয়মিত আর্থিক সুবিধার আওতায় আসেননি। তাই এই ক্রীড়া ভাতা কার্ড চালু হওয়াকে খেলোয়াড়দের জন্য এক নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রীড়া ভাতা কার্ড হাতে পেয়ে জামাল ভূঁইয়া তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
অনেকেই এটিকে ‘ক্রীড়া কার্ড’ হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি এটিকে ‘আমিনুল কার্ড’ বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার ভাষায়, অতীতে কেউ খেলোয়াড়দের জন্য এমন উদ্যোগ নেয়নি, কিন্তু বর্তমান প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক খেলোয়াড়দের কথা ভেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
উল্লেখ্য, আগামী ২২ এপ্রিল চীনের সানিয়াতে এশিয়ান বিচ গেমসের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এতে অংশ নিতে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেই সফরের আগে আজ সকালে নিজের বাসভবনে জামালের হাতে এই কার্ড তুলে দেন তিনি। যদিও অধিনায়ক হিসেবে জামালের গতকাল দলের সঙ্গে উপস্থিত থাকা প্রত্যাশিত ছিল, তবুও ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে কার্ড গ্রহণ করায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবলে জামাল ভূঁইয়ার অবদান নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন,
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলাররা জাতীয় দলে খেলার আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং অনেকে ইতোমধ্যে খেলছেনও। এই ধারা শুরু হয়েছিল জামাল ভূঁইয়ার মাধ্যমেই, যা দেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় অর্জন এখনো ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। সেই দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন আমিনুল হক নিজেও। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন সেপ্টেম্বরে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করা গেলে এবং সরকারের সহায়তা থাকলে আবারও শিরোপা জয়ের আনন্দ দেখতে পারবে দেশবাসী।
জাতীয় দলের কোচ নিয়ে আলোচনা
এদিকে জাতীয় দলের কোচ নিয়েও সম্প্রতি আলোচনা চলছে। স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাফুফে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন,
সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যেন একজন মানসম্পন্ন কোচ নিয়োগ দেওয়া যায়, সে চেষ্টা চলছে। এমন কোচ দরকার, যিনি জামাল ভূঁইয়া, হামজাদের মতো খেলোয়াড়দের আরও উন্নত করতে পারবেন।
আজকের এই অনুষ্ঠানে জামালের সঙ্গে ছিলেন দলের টিম অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং আমিনুল হক খেলোয়াড় থাকাকালেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রীড়াঙ্গনে মহসিনের মতো নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের জন্যও ভবিষ্যতে কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
