সবার আগে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আর্সেনাল পা রাখল। আজ রাতে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে তারা নিজেদের মাঠ এমিরেটসে ১-০ গোলে হারিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে। ফলে সেমি থেকেই বিদায় ঘটল অ্যাটলেটিকোর।
চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আর্সেনাল উঠেছে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো। দুই দলেরই ফাইনাল ফেরার লড়াই ছিল এবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেনি মাদ্রিদের ক্লাবটি। ১৯ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেমির গণ্ডি পেরিয়েছে গানাররা।
কোয়ার্টার ফাইনালের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে সেমিফাইনালের দুই লেগেই সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে আর্সেনালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। ফাইনালে ওঠার জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল জয়ের। তবে সেটি যে অত্যন্ত কঠিন হবে তা আগেভাগেই বলা যাচ্ছিল। কারণ, গানারদের মাঠ এমিরেটসে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপ পর্বে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছিল অ্যাটলেটিকো।
মাদ্রিদে গিয়ে ড্র করে আসা আর্সেনাল ঘরের মাঠে উজ্জীবিত হয়েই নামে। আর অ্যাটলেটিকোকে ম্যাচের পুরো সময়েই তারা কোণঠাসা করে রাখে। বেশিরভাগ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে আর্সেনাল। অবশ্য ফিনিশিং সমস্যায় গোল পাচ্ছিল না তারা।
প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়ই অ্যাটলেটিকোর রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন গানার বুকায়ো সাকা, ইবেরেচি ইজে, লিয়ান্দ্রো তোসার্দ ও ভিক্টর গিওকেরেস। ধারালো কোনো আক্রমণ কোনো দলই সেভাবে করতে পারেনি। তবে বারবার আক্রমণ শাণিয়ে যাওয়া আর্সেনালই প্রথম সাফল্য পায়।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষ সময়ে (৪৫তম মিনিট) সাকা লক্ষ্যভেদে সফলকাম হয়েছেন। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধেও পরিস্থিতি পাল্টাতে পারেনি অ্যাটলেটিকো। কিছু আক্রমণ রচনা করলেও সেসব তেমন চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারেনি আর্সেনালকে।
চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আর্সেনাল ১৯ বছর পর
অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে সমানে-সমান লড়েছে দুই দল। এক গোলের লিডে থাকায় বেশ সতর্ক ছিল মাইকেল আরতেতার শিষ্যরা। কিন্তু তাদের কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো কোনো আক্রমণ চালাতে পারেনি ডিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা। শেষ পর্যন্ত ওই ১-০ গোলের হারেই বিদায় ঘটে তাদের। ফাইনালে ওঠে আর্সেনাল দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে।
২০০৬ সালে সর্বশেষবারই শুধু নয়, ইতিহাসে একবারই ফাইনাল খেলেছে আর্সেনাল। সেবার রানার্সআপ হয়েছে তারা। তাই ১৯ বছর পর আবার ফাইনালে উঠল তারা। এখন তাদের অপেক্ষা শিরোপা লড়াইয়ে কারা প্রতিপক্ষ হয় তার জন্য। আগামীকাল আরেকটি সেমির দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও বায়ার্ন মিউনিখ।
আর্সেনালের তুলনায় চ্যাম্পিয়নস লিগে সাফল্য বেশি অ্যাটলেটিকোর। তারা তিনবার ফাইনাল খেলেছে। তবে ১৯৭৪, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ৯ বছর পর তাদের সুযোগ ছিল আবার ফাইনালে ওঠার। কিন্তু ব্যর্থ হল তারা।
