ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ
আবুধাবির জায়েদ স্টেডিয়ামের উইকেটের চরিত্র বাংলাদেশের সাথে একমাত্র টেস্টেই জেনে গিয়েছিল আফগান তাই টস জিতে ব্যাটিং প্যারাডাইস উইকেটে ব্যাটিং নিতে মোটেও ভুল করেননি আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ্। বাংলাদেশর সাথে টেস্ট ড্র করে যেখানে শেষ করেছিলেন ঠিক সেখানেই যেন জিম্বাবুয়ের সাথে শুরু করলেন জয় দিয়ে। টেস্টে সেদিকুল্লাহ আতাল যেমন সেঞ্চুরি করেছিলেন আবুধাবিতে ওয়ানডেতেও করলেন, যেন তাঁর প্রিয় গ্র্রাউন্ড হয়ে উঠলো আবুধাবি এই কদিনেই! স্বপ্নময় সময় কাটছে তার মরুর দেশে। তাই দিন শেষে আতালের সেঞ্চুরি, রশিদের ঘুর্ণিতে ১৫৮ রানের জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করলো আফগানরা।
জিম্বাবুয়ে ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯৬ রান করতে পারলেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠত। কিন্তু ১৩৬ রানেই অলআউট হয়ে ১৫৮ রানের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
আফগাননিস্তান অলআউট হয়েছে তাতে কি তার আগে যা করার ছিল তা করেই শেষ বলে ১০ম উইকেট হারিয়ে ২৯৪ রান করে ২৯৫ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল জাদরানরা। ৫০ রানে প্রথম উইকেটের পতন হলেও ইব্রাহিম জাদরান আর আতাল দলকে নিয়ে যান ১৯০ রানে তার পর জাদরান আউট হলেও আতাল আর অধিনায়ক রহমত শাহ্ দলকে নিয়ে যান ২০২ রানে এরপর আতাল তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে নিয়ে যান ২৭২ রানে তারপর রশিদদের ছোট ছোট অবদানে দল পায় ২৯৪ রানের নির্ভার স্কোর। আতাল করেন ১০২ রান এবং ইব্রাহিম জাদরান খেলেন ৯০ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজন গড়েন ১৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

জবাবে ২৯৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত ৩৮.৪ ওভারে মাত্র ১৩৬ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ১৯৬ রান করতে পারলেই ফাইনাল নিশ্চিত হতো জিম্বাবুয়ের। কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরেই থামতে হয় তাদের। এই জয়ের পর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে রয়েছে তিন দলই-আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ।
ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারের ধস নামে, বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার ভেঙে পড়েছিল। সেবার ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানো দলটি এবার ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি টেলররা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বাঁহাতি ব্যাটার বেন কারানকে বোল্ড করেন ফজল হক ফারুকি। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকে আসা বলে পরাস্ত হয়ে কোনো রান না করেই ফেরেন কারান।
এরপর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন ব্রায়ান বেনেট। একটি ছক্কা ও একটি চার মারলেও তাফাজওয়া সিগাকে নিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ফারুকির বলে অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সিগা করে ২ রান। ব্রেন্ডন টেলর ক্রিজের বাইরে বেশি দূর এগিয়ে যাওয়ায় রানআউট হন। আজমতউল্লাহ ওমরজাই সরাসরি থ্রো করে তাঁকে ফিরিয়ে দেন। একই ওভারে ওমরজাইয়ের বলে বোল্ড হন বেনেট। তবে বোলারের রানআপের সময় তাঁর রুমাল পড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন বেনেট। আম্পায়াররা আলোচনা করে বলটিকে ‘ডেড বল’ ঘোষণা করেন। পরে এএম গজনফরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন বেনেট। ৪০ বলে ৩১ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা।
রাজা-বার্ল প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত রশিদের ঘূর্ণিতেই শেষ হয় জিম্বাবুয়ে। ১৩তম ওভারে ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল। রাজা জিয়াউর রহমানকে একটি ছক্কা মারেন। বার্লও হাঁকান একটি চার। তবে এরপর টানা ১৩ ওভার কোনো বাউন্ডারি ছাড়াই খেলেন তাঁরা।

এই সময় রাজাকে দুটি সুযোগ দিয়েছিল আফগানিস্তান। ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে দৌড়ে এসে ক্যাচ নিতে গিয়ে বল ফেলে দেন ওমরজাই। তখন রাজার রান ছিল ২০। পরে ২৪ রানে স্লিপে ক্যাচ দিলেও তা তালুবন্দি করতে পারেননি ফিল্ডার। অবশেষে ৩০তম ওভারে জিয়াউরের বলে বাউন্ডারি মেরে দীর্ঘ খরা কাটান রাজা। এরপর বার্ল মোহাম্মদ নবিকে আরেকটি চার মারেন। কিন্তু রশিদ খান আক্রমণে এসে জিম্বাবুয়ের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। ৩১ রান করা বার্লের বিদায়ে ভাঙে পঞ্চম উইকেটে ৬৪ রানের জুটি।
আর রশিদের নিচু হয়ে আসা বলে এলবিডব্লিউ হন ওয়েসলি মাধেভেরে। রশিদের পরের ওভারেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ৮০ বলে ৪৮ রান করেন তিনি। রশিদ খান শেষ পর্যন্ত চার উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন। ফারুকি নেন দুটি উইকেট। ব্র্যাড ইভান্সকে আউট করেন নবি এবং রানআউটের শিকার হন মাসাকাদজা। ফলে ৩৮ ওভার ৪ বলেই শেষ হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বলা যায় আতাল ও জাদরানের গড়া ভিত এবং রশিদ খানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদেই ১৫৮ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার আশা আরও জোরালো করল আফগানিস্তান। সেদিকুল্লাহ আতাল ১০২ রান করে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।




