কোপা দেল রে’র সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বড় ধাক্কা হজম করতে হয়েছে শিরোপা প্রত্যাশী বার্সেলোনাকে। বৃহষ্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের ম্যাচে অ্যাওয়েতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ০-৪ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। আতলেতিকো মাদ্রিদ চারটি গোলই পেয়েছে প্রথমার্ধে।
ভয়াবহ বিপর্যয় দিয়ে শুরু হয় বার্সেলোনার এ ম্যাচ। লড়াই শুরু হতে না হতেই তারা পিছিয়ে পড়ে। আতলেতিকো মাদ্রিদ তাদের প্রথম গোলটি পায় আত্মঘাতি গোলের সুবাদে। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ছয় মিনিট। এমন সময় নিজেদের গোল পোস্টের সামনে এরিক গার্সিয়ার একটা নিরীহ পাস নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেস্টা ব্যর্থ হয় হুয়ান গার্সিয়ার। বল তার পায়ের নিচ দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে জালে আশ্রয় নেয়।
বল যেনো গোল লাইন অতিক্রম না করতে পারে সে কারণে হুয়ান গার্সিয়া আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। দৌড়েছিলেন, ঝাঁপও দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আতলেতিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড আদেমোলা লুকমান গোলটি নিজের নামে লিখিয়ে নিতে যথেষ্ঠ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার পা বল ছোঁয়ার আগেই বল গোল লাইন অতিক্রম করে।

শুরুর এই গোল যেন বার্সেলোনাকে এলোমেলো করে দেয়। নিজেদেরকে আর তারা গুছিয়ে তুলতে পারেনি। ছন্দহীন হয়ে পড়ে। বার্সেলোনার এই ছন্দহীনতাকে পুঁজি করে একের পর এক গোল করে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ১৪ মিনিটে দ্বিতীয়বার বার্সেলোনার গোলরক্ষককে জাল থেকে বল কুড়িয়ে আনতে হয়। অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান করেন এ গোলটি। ৩৩ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান আদেমোলা লুকমান। আর প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে ব্যবধান ৪-০ করেন হুলিয়ান আলভারেজ।
লজ্জায় ডুবতে হয়েছে
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেস্টা করে বার্সেলোনা। একের পর এক আক্রমণ করেছে। কিন্তু কাঙ্খিত সেই গোলের দেখা পায়নি। বরং এ অর্ধে গোল না হজম করলেও আরও লজ্জায় ডুবতে হয়েছে তাদের। এখানেও সেই এরিক গার্সিয়া। ম্যাচের শুরুতে আত্মঘাতি গোল করা এরিক গার্সিয়া দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ড দেখে বহিষ্কৃত হন। শুরুতে অবশ্য তাকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে ভিএআর দেখে অপরাধের ধরণ বিবেচনা করে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটা গোলের দেখা পেয়েছিল সফরকারী বার্সেলোনা। পাও কুবার্সি করেছিলেন গোলটি। কিন্তু ম্যারাথন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর গোলটি বাতিল করেন রেফারি। অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
ম্যাচের শেষ মুহুর্তেও একটা সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা ব্যবধান কমানোর। কিন্তু ফেরান টরেসের হেড পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। তার মাধ্যমে শেষ হয় বার্সেলোনার এক ভয়াবহ রাত। বার্সেলোনার জন্য এখন কোপা দেল রে প্রতিযোগিতায় ফিরে আসা একটু কঠিনই হবে। যদিও তারা ফিরতি লেগের ম্যাচ নিজেদের মাঠে খেলবে কিন্তু চার গোলের ব্যবধান ঘুঁচিয়ে জয়ের পাল্লাটা নিজেদের দিকে আনা অসম্ভব এক মিশন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















