বাংলাদেশ দল দুই টেস্ট খেলতে আগামী আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া যাবে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটারদের মধ্যে অনীহা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার ক্ষেত্রে। এমনটাই জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
বর্তমানে বড় ধরণের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আসর খেলার জন্য অনেক দেশের তারকা ক্রিকেটারই জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলা থেকে বিরতি নেন। তবে এই ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা বরাবরই ভিন্ন। তারা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আগে প্রাধান্য দেন জাতীয় দলকে। তবে এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার ক্ষেত্রে ভিন্ন কিছু দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটারদের মাঝে অনীহা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের মতো ছোটো দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার ক্ষেত্রে। কারণ, বর্তমানে প্রায়ই ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে জাতীয় দলকেই অজিদের প্রাধান্য দিতে দেখা যায়। তবে এই চিত্র খুব বেশিদিন দেখা যাবে না—এমনটাই শঙ্কা অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবারও টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ পুরুষ দল। আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলবে। সিরিজের প্রথম টেস্ট হবে ডারউইনে, ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে ম্যাকে, ২২ থেকে ২৬ আগস্ট।
অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটারদের যে বিষয়ে অনীহা
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন,‘আগস্টে ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডে না গিয়ে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলাকে ঘিরে ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ধরনের ‘দ্বিধা’ তৈরি হচ্ছে—যা ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। বড় অ্যাশেজ সিরিজ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সবাই সেখানে খেলতে চায়। তবে এবার যেমন দ্য হান্ড্রেড চলাকালেই আমাদের বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট আছে, তাই যারা ওই টেস্টে খেলবে, তারা সবাই হান্ড্রেডের নিলাম থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।’
তবে এই প্রবণতা ভবিষ্যতে একইভাবে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন কামিন্স। বাংলাদেশ টেস্টের জন্য দ্যা হান্ড্রেডে বড় অঙ্ক আয়ের সুযোগ বিসর্জন দিয়েছে কয়েকজন অজি ক্রিকেটার। কামিন্স বলেন, ‘আমাদের কিছু খেলোয়াড় ২০ দিনের কাজের জন্য পাওয়া প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ডের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিচ্ছে, শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুটি টেস্ট খেলতে। আমার মনে হয়, এটিই একটা ‘সাংঘর্ষিক ব্যাপার।’
কামিন্স আরও বলেন,‘এখনও আমাদের খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে এতটাই আগ্রহী যে তারা এই অর্থ ছেড়ে দিতেও রাজি। তবে আমরা ধরে নিতে পারি না যে ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি একই থাকবে।’ অবশ্য প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়।
জাতীয় দল থেকে অজি ক্রিকেটারদের আয়
সাম্প্রতিক দ্য হান্ড্রেড নিলামে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আয়কারী ছিলেন টিম ডেভিড, যিনি পেয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। তবে মূল আলোচনার জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ টেস্ট তারকা—প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক, ক্যামেরন গ্রিন ও ট্রাভিস হেড—আইপিএলে টিম ডেভিডের চেয়েও অনেক বেশি আয় করেন। তাদের আইপিএল বাজারমূল্য বিবেচনায় দ্য হান্ড্রেড নিলামেও একই ধরনের পারিশ্রমিক পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। প্যাট কামিন্স নিজেই জানিয়েছেন তার জাতীয় চুক্তির মূল্য প্রায় ৩০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে প্রতি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ানরা স্কোয়াড ফি হিসেবে পান ১৬ হাজার ৩১৮ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, আর একাদশে খেললে অতিরিক্ত ৩,২৬৪ ডলার ম্যাচ ফি। এর সঙ্গে প্রতিটি জয়ের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ১১ হাজার ২৫৫ ডলারের বোনাসও রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট জিতলে, কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে একজন খেলোয়াড়ের আয় দাঁড়াতে পারে মোট ৬১ হাজার ৬৭৪ অস্ট্রেলিয়ান ডলার—যদিও তারা দ্য হান্ড্রেডে না গিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় ছাড়ছেন।
কিন্তু কামিন্স বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন ফরম্যাটেই খেললে খেলোয়াড়রা খুব ভালো পারিশ্রমিক পায়। তবে স্বল্পমেয়াদে যদি সব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা যায়, তাহলে হয়তো আরও বেশি আয় করা সম্ভব। এখনও আমাদের খেলোয়াড়রা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসে, কিন্তু এটা চিরকাল এমন থাকবে—এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ভবিষ্যতে কারও অগ্রাধিকার বদলাতে পারে ‘
