কোহলির ঝোড়ো ফিফটিতে আবারও আইপিএল চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু । আহমেদাবাদের রাতটা শেষ পর্যন্ত বিরাট কোহলির নামেই লেখা থাকল। আরশাদ খানের বল লং-অনের ওপর দিয়ে গ্যালারিতে পাঠানোর পর আঙুল উঁচিয়ে দুই হাত দিয়ে কাপ ধরার মতো ভঙ্গি করেন তিনি। সেই মুহূর্তেই শুরু হয়ে যায় শিরোপা উদযাপন। সতীর্থরা তখন একে একে ছুটে আসছেন, আকাশজুড়ে আতশবাজি, আর আরেকবার আইপিএলের ট্রফি নিজেদের করে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
একপেশে ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বেঙ্গালুরু। আগে ব্যাট করে মাত্র ১৫৫ রানে থেমে যায় গুজরাট। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংসে ম্যাচ নিজের করে নেন কোহলি। দারুণ দল গড়েও প্রথম ১৭ আসরে শিরোপার দেখা পায়নি আরসিবি। ২০২৫ সালে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটার পর এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ধরে রাখল তারা।
আইপিএলের ইতিহাসে এর আগে শুধু মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। এবার সেই তালিকায় নাম লিখল বেঙ্গালুরু।
রান তাড়ায় শুরুটা ছিল দারুণ। ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ঝড়ো ভঙ্গিতে এগোতে থাকেন কোহলি। চার ও ছয়ের ফুলঝুরিতে দ্রুত রান তুলতে থাকে বেঙ্গালুরু। তবে পঞ্চম ওভারে ৬২ রানের মাথায় আইয়ারকে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন মোহাম্মদ সিরাজ। পরে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে দেবদত্ত পাডিক্কালকে আউট করে গুজরাটের কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেন কাগিসো রাবাদা।
তবে একপাশে থিতু হয়ে কোহলি রান বাড়াতে থাকেন। রজত পাতিদারের সঙ্গে জুটি গড়ে বেঙ্গালুরুর ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি। নবম ওভারে রশিদ খান পরপর পাতিদার ও ক্রুনাল পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে রোমাঞ্চ তৈরি করলেও টিম ডেভিডকে সঙ্গে নিয়ে সেই চাপ সামলে নেন কোহলি। ২৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে দলকে আরও কাছে নিয়ে যান এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
আরশাদ খানের বলে টিম ডেভিড ২৪ রান করে ফিরলেও তখন ম্যাচ প্রায় আরসিবির মুঠোয়। এরপর আরশাদের বল লং-অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে বিজয় উদযাপন করেন কোহলি। গুজরাটের প্রতিরোধ ভেঙে টানা দ্বিতীয় ট্রফি জিতে নেয় বেঙ্গালুরু, আর ফাইনালের নায়ক হিসেবে আলো ছড়ান সেই কোহলিই।
