সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৬ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ । বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ২৭৮ রানের জবাবে পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানে থেমেছে। ফলে ৪৬ রানে লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ।
টেস্টের দ্বিতীয় দিন রোববার লাঞ্চের আগেই পাকিস্তানের ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। সকালে পাকিস্তান শিবিরে জোড়া আঘাত হেনেছে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দিন শেষে ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে পাকিস্তান।
তাসকিনের জোড়া আঘাতে শুরুতেই চাপে পাকিস্তান
দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। দলীয় ২২ রানে প্রথম এবং এক রানের ব্যবধানে আরেক উইকেট হারায় পাকিস্তান। প্রথম সেশন থেকেই সফরকারীদের চাপে রাখার লক্ষ্যে তাসকিন ও শরিফুল ইসলাম ব্যাটারের চাপে রেখে বল করে ছিলেন। ফলে উইকেটে বেশ বেগ পেতে হয়নি তাদের। দিনের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই তাসকিন ফেরালেন আব্দুল্লাহ ফজলকে।
মিরপুর টেস্টে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরি করা এই ২৩ বছর বয়সী ওপেনারের ক্যাচ ঝাঁপিয়ে তালুবন্দী করেছেন লিটন দাস। ব্যক্তিগত ৯ রানে ফজল ফিরলেন। এক ওভার পর আবারও আক্রমণে ফিরে তাসকিন ফেরালেন আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে।
তার বল কিছুটা দেরিতে সুইং করার পর শর্ট লেগে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দেন পাকিস্তানি ওপেনার। অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা আজান ১৩ রান করে ক্রিজ ছাড়েন। ২৩ রানে দুই ওপেনারকে হারায় তারা। এরপর জোড়া আঘাত হানেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। অধিনায়ক শান মাসুদ ব্যক্তিগত ২১ রান করে মিরাজের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। ৩ উইকেটে পাকিস্তানের রান তখন ৬১। মিরাজ নিজেদের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন দলীয ৭৯ রানে। সৌদ শাকিল ৮ রান করে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন।
লাঞ্চের পর বাবর আজম ও সালমান আঘা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। অবশেষে দলীয় ১৪২ রানের মাথায় বাবর আজমকে ফেরান নাহিদ রানা। এই অভিজ্ঞ তারকা ব্যাটার ৮৪ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৬৮ রান করে বিদায় নেন। এরপর স্পিনের ভেলকি দেখান তাইজুল ইসলাম। পরের তিন উইকেট তুলে নেন এই স্পিনার। সালমান আঘা ৫১ বলে দুই চারে ২১ রানে ক্যাচ দেন মুমিনুলের হাতে।
পাকিস্তানের রান তখন ৬ উইকেটে ১৫০। পরে ১৩ রান করা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সরাসরি বোল্ড করেন তাইজুল। হাসান আলী ১৮ রান করে তাইজুলের বলে নাহিদের তালুবন্দি হন। ১৮৪ রানে ৮ উইকেটে হারায় তারা। দলের বিপদে সাজিদ খান ও খুররম শাহজাদ জুটি গড়ার চেষ্টা করেন।
নাহিদ-তাইজুলের দাপটে পাকিস্তান অলআউট
এ জুটিতে ২৩ রানের বেশি করতে পারেনি। নাহিদ রানা বোলিংয়ে ফিরে খুররমকে বিদায় করেন। ১০ রান করে মাহমুদুল হাসানের তালুবন্দি হন তিনি। পাকিস্তানের রান তখন ৯ উইকেটে ২০৭। তবে শেষ উইকেট জুটিতে সাজিদ খান ও মোহাম্মদ আব্বাস দ্রুত রান তোলেন। অবশেষ নাহিদ রান ভাঙে এ জুটি। সাজিদ ২৮ বলে দুই চার ও চার ছক্কায় ৩৮ রান করে বিদায় নেন। বল হাতে নাহিদ রানা ও তাইজুল নেন তিনটি করে উইকেট। এছাড়া তাসকিন ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট।
এর আগে সিলেট টেস্টে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করে। পাকিস্তানের খুররম শেহজাদ নেন ৪ উইকেট। উল্লেখ্য’ঢাকায় সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।
