২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল টাইগাররা

২১ বছর অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল টাইগাররা

দীর্ঘ ২১ বছর অবশেষে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। মঙ্গলবার মিরপুরে বাংলাদেশের দেওয়া ২৮৫ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলে অজিরা। তবে এরপর মিরপুরে মেঘলা আকাশে বজ্রপাতের শঙ্কা দেখা দিলে খেলোয়াড়রা দ্রুত মাঠ ছাড়েন। ফলে বৃষ্টি আইনে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে বাংলাদেশ জয় পায় ৮৬ রানে।

এদিন শুরুতেই তাসকিন-মোস্তাফিজ দলীয় ২ রানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ২ উইকেট তুলে নেন। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার ম্যাথু শর্ট শূণ্য রানে বোল্ড করেন পেসার তাসকিন। দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে মোস্তাফিজের বলে ১ রানে এলিবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েন মার্নাস লাবশেন। শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে তৃতীয় উইকেটে ওপেনার কুপার কনোলির সাথে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক জশ ইংলিশ।

এর আগে দলীয় অবশেষে দলীয় ৫১ রানে এ জুটি ভাঙেন পেসার নাহিদ রানা। টাইগার এই পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্লিপে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেওয়ার আগে ইংলিশের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। চতুর্থ উইকেটে ফের জুটি গড়ার চেষ্টা করে অজিরা। দলের বিপদে কনোলির সাথে দলের হাল ধরেন অ্যালেক্স কেয়ারি। এবার অস্ট্রেলিয়া শিবিরে আঘাত হানেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক।

কনোলিকে বোল্ড করেন মোসাদ্দেক হোসেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। ১৯.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ৯১। এরপর বল হাতে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন পেসার নাহিদ রানা। দলীয় ১২৮ রানে রানা ফিরিয়ে দেন অ্যালেক্স কেয়ারিকে। তিনি ৬২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৪৭ রান করেন। পরে মোসাদ্দেকের বলে এলবিডাব্লিউর শিকার হয়ে ২ রানে বিদায় নেন ম্যাচ রেনশ।

শেষ দিকে রানার বলে দ্রত বিদায় নেন রিয়াম স্কট ২ ও জেভিয়ার বার্টলেট ১ রানে। ৩২.১ ওভারে দলীয় ১৪০ রানে ৮ উইকেটে হারিয়ে ধুরতে থাকে অজিরা। দলীয় ১৫৬ রানের মাথায় এলিস ৮ রান করে মোস্তাফিজের বলে মোসাদ্দেকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেলেন। তবে এরপর মিরপুরে মেঘলা আকাশে বজ্রপাতের শঙ্কা দেখা দিলে খেলোয়াড়রা দ্রুত মাঠ ছাড়েন। ক্যামেরন প্রিন ৫২ ও অ্যাডাম জ্যাম্পা ৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৪২.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ১৯১। তবে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ জয় পায়। বল হাতে নাহিদ রানা ১০ ওভারে ৪১ রানে ৪ উইকেট নেন। এছাড়া মোস্তাফিজ ও মোসাদ্দেক নেন দুটি করে উইকেট।

এর আগে মিরপুর শেরেবাংলা টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিন ফিফটিতে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান তোলে মিরাজের দল। ব্যাট হাতে ফিফটি তুলে নেন তানজিদ হাসান, নাজমুল শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেন। তবে নিজেদের মাঠে দীর্ঘ ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। শুরুতেই ওপেনার সাইফ হাসানকে হারায় তারা।

ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫ রান করেন তিনি। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে সাথে নিয়ে দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪১ বলে ছয় চার ও এক ছক্কায় ৫০ রান পূর্ণ করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে ৯১ বলে আসে ৯৬ রান। তাদের সাবলীল ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে রান এসেছে দ্রুত। ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৬২। অবশ্য ব্যাটিংয়ের শুরুতেই ব্যক্তিগত ৯ রানে ন্যাথান এলিসের বলে নতুন জীবন পান শান্ত।

দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ নিতে পারলেন না মার্নাস লাবুশেন। কিন্তু সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি লাবুশেন। আগের বলে বেরিয়ে এসে মিড অন দিয়ে চার মারেন শান্ত। পরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে ঠিকঠাক খেলতে পারেননি তিনি। ক্যাচ যায় উইকেটের পেছনে। তবে ফিফটির পর নিজের ইনিংস বড় করতে পারেনি তানজিদ। ব্যক্তিগত ৫৪ রানে বিদায় নেন এই ওপেনার। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ১৬.৩ ওভারে ২ উইকেটে ১০৬ রান। পরে নাজমুল হোসেন শান্ত তুলে নেন ফিফটি। অবশ্য তার আগেই বিদায় নেন লিটন দাস। চারে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ বলে ৭ রানে ফেরেন এই উইকেট কিপার ব্যাটার। এরপর শান্ত ফিরে যান ব্যক্তিগত ৬৭ রানে।

৮৬ বলে ৯ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় এ রান করেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। বাংলাদেশের রান তখন ২৫.৩ ওভারে ১৪০ রান। পরে তাওহীদ হৃদয়ের সাথে দারুণ জুটি গড়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ফিরে দারুণ ব্যাটিং উপহার দেন তিনি। তাওহীদ হৃদয় দেখে শুনে খেলে ৭০ বলে ৩১ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ৩ ও তানভীর ইসলামের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫ রান।


তবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাহসী ব্যাটিং উপহার দিয়ে অপরাজিত ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৭০ বলে সাত বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় এ রান করেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ১৬ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ২০ রান করে বিদায় নেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ন্যাথান এলিস ৩টি এছাড়া লিয়াম স্কট ও ম্যাচ রেনশ দুটি করে উইকেট নেন। এর আগে মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে টস জিতে বাংলাদেশেকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিশ।

Exit mobile version