আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ

ফিফা আসিয়ান কাপের এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে পড়ছে বাংলাদেশ। শুক্রবার শক্তিশালী মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়ে টুর্নামেন্টের অভিযান শুরু করবে লাল-সবুজের দল। ম্যাচের আগের দিন বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষ এবং টুর্নামেন্টের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।

ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। ফলে ম্যাচের আগে প্রস্তুতির সময়ও কিছুটা কমেছে। তবে শেষ পর্যন্ত দলের ইন্দোনেশিয়া পৌঁছানোয় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জামাল।

অধিনায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, আরও আগে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছে নিজেদের প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দলের সদস্যরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারায় এখন পুরো মনোযোগ মাঠের লড়াইয়ে।

কঠিন প্রতিপক্ষ, তবুও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দল। ফলে প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত নন জামাল ভূঁইয়া।

বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, বড় দলের বিপক্ষে খেলাই নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করার সুযোগ তৈরি করে। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস রয়েছে এবং মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নামতে চান তারা।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।

প্রস্তুতিতে ঘাটতি, লক্ষ্য পারফরম্যান্সে

ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রস্তুতিতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে এ বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে সামনে আনতে চান না জামাল। বরং হাতে থাকা সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার দিকেই নজর বাংলাদেশের।

মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে শুরু থেকেই নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুটবল খেলতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে দলের মধ্যে সমন্বয় ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের চাপ সামলে সুযোগ তৈরি করাই হতে পারে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সাফের প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ আসিয়ান কাপ

বাংলাদেশের সামনে আগামী মাসে রয়েছে আরও বড় লক্ষ্য, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে আসিয়ান কাপকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখছেন জামাল ভূঁইয়া।

তবে শুধু প্রস্তুতির অংশ হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চায় না বাংলাদেশ। প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্য দলের।

অধিনায়কের মতে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষগুলোর বিপক্ষে খেলে পাওয়া অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কাজে লাগতে পারে। একই সঙ্গে আসিয়ান কাপে ইতিবাচক ফলাফল দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে।

পয়েন্ট ও জয়ই হবে সাফল্যের মাপকাঠি

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সাফল্য নিয়েও নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন জামাল। তাঁর মতে, কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কয়েকটি পয়েন্ট অর্জন করতে পারলে সেটি হবে ইতিবাচক ফল। পাশাপাশি এক বা দুটি ম্যাচে জয় পেলে পুরো সফরই সফল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে ফলাফলের পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফরম্যান্স করা এবং ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকা।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles