উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে পাঁচ গোলে হার বাংলাদেশের

এশিয়া কাপ

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এশিয়া কাপ মিশন স্বস্তিদায়ক হচ্ছে না। প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলতে যাওয়া দলটি দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরেছে। প্রথম ম্যাচের তুলনায় দ্বিতীয় ম্যাচে হারটা আরও তিক্ত হয়েছে। নিজেদের অভিষেক ম্যাচ চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল। এবার উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলার বাঘিনীরা। সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে এই হারের তিক্ত স্বাদ হজম করতে হয়েছে।

চীনের কাছে আগের ম্যাচে হারলেও পারফরম্যান্সে সমর্থকদের নজর কেড়েছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। উত্তর কোরিয়ার হয়ে জোড়া গোল করেছেন কিম কিয়ং ইয়ং । এছাড়া একবার করে নিজ দলের সমর্থকদের আনন্দে ভাসিয়েছেন মিয়ং ইউ ঝং, চায়ে উন ইয়ং ও কিম হায়ে ইয়ং।

নারী ফুটবলে বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার অবস্থানে বিস্তর ফারাক। শক্তির বিচারে দুই দলের অবস্থান ভিন্ন মেরুতে। র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১১২ তে, আর উত্তর কোরিয় রয়েছে নয়ে।

চীন এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। শুধু তাই নয়, তারা টুর্নােন্টে নয়বার শিরোপা জয় করেছে। সেই দলের বিপক্ষে সমানতালে লড়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করায় এ ম্যাচকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা বেড়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সেভাবে খেলতে পারেনি। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে বলতে কিছুই ছিল না। ঠিকভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

বল দখলের লড়াই

উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের তোড়ে বাংলাদেশকে বেশিরভাগ রক্ষণে মনোযোগ দিতে হয়েছে। বল দখলের আধিপত্যে ছিল বিস্তর পার্থক্য। উত্তর কোরিয়া ৬৫.৩ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণ করেছে। বাংলাদেশের দখলে ছিল ৩৪.৭ ভাগ সময়। বাংলাদেশ কখনো উত্তর কোরিয়ার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারেনি। কোনো আক্রমণেই যেতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ওপর চাপ বেড়েছে। একের পর এক গোল হজম করতে হয়েছে। এই ম্যাচে উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশের জাল লক্ষ্য করে ৩১টি শট নিয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের ১১টি শট নিয়েছে।

বাংলাদেশের রক্ষণভাগ কিছু চমক না দেখালে গোলের ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো। পোস্টের নিচে মিলি আক্তারের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ব্যবধানে বাড়েনি। পাঁচবার তিনি বল রুখতে ব্যর্থ হয়েছেন ঠিকই। পাশাপাশি অন্তত পাঁচবার তিনি দলকে নিশ্চিত গোল হজম থেকে রক্ষা করেছেন।

পার্থে আগামী ৯ মার্চ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

Exit mobile version