এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। গুরুত্বপূর্ণ এই অ্যাওয়ে ম্যাচটি সামনে রেখে আজ সকালে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুরে গিয়েছে দলটি। টানা ব্যস্ত সূচির মধ্যেও শেষ ম্যাচটিকে ঘিরে খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে বাড়তি উদ্দীপনা ও মনোযোগ।
এবারের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের প্রথম হোম ম্যাচ ছিল সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেই, যা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। সেই ম্যাচে ভালো লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ১-২ গোলের ব্যবধানে পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ফলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেওয়ার একটা সুযোগও থাকছে এই শেষ ম্যাচে। আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে বাংলাদেশের এবারের এশিয়ান কাপ বাছাই মিশন।
র্যাংকিংয়ের লড়াই
অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর ইতোমধ্যেই তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে তাদের জন্য ম্যাচটি তেমন চাপের না হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি সম্মান ও র্যাংকিংয়ের লড়াই। ম্যাচটি অনেকটাই নিয়মরক্ষার হলেও জয় পেলে বাংলাদেশের ফিফা র্যাংকিংয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই ম্যাচে জয় পেলে বাংলাদেশ তাদের মোট পয়েন্ট দাঁড় করাতে পারবে ৮-এ। একই দিনে গ্রুপের অন্য ম্যাচে যদি ভারত হংকংকে হারায়, তাহলে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের পয়েন্ট সমান হবে। সে ক্ষেত্রে গোল ব্যবধানসহ অন্যান্য বিবেচনায় অবস্থান নির্ধারিত হবে। তাই শেষ ম্যাচটিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের জন্য।
সিঙ্গাপুর ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ দল ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা শক্তিশালী ভিয়েতনাম প্রথমার্ধেই তিনটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ নিজেদের রক্ষণভাগ কিছুটা গুছিয়ে নিতে সক্ষম হয় এবং আর কোনো গোল হজম করেনি। যদিও ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে যায়নি, তবে এই ম্যাচ থেকে দলটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করেই রাতের মধ্যে বিশ্রাম নিয়ে সকালে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বাংলাদেশ দল। সিঙ্গাপুরে পৌঁছে তারা তিন দিন অনুশীলনের সুযোগ পাবে, যা শেষ ম্যাচের আগে নিজেদের প্রস্তুতি আরও ঝালিয়ে নিতে সহায়ক হবে। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা আশা করছেন, এই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে দল নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে।
সব মিলিয়ে, যদিও ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না, তবুও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিতে বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
