অসহায় আত্নসমর্ণ
প্রথম ম্যাচে চীনের বিপক্ষে লড়াই করে ২-০ গোলের হার, দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় পরাজয়ের পর তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে অসহায় আত্নসমর্ণ করে ৪-০ গোলের বড় পরাজয় দিয়ে এএফসি নারী এশিয়ান কাপ মিশন শেষ করলো। অথচ উজবেকদের বিপক্ষে জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন আফঈদা-ঋতুপর্ণা চাকমারা।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল বাঁচা–মরার লড়াই। ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। শুধু জিতলেই হতো না, অন্য গ্রুপের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেদের কাজটাই ঠিকভাবে করতে পারেনি বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশ খারাপ খেলেনি
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য বাংলাদেশ খারাপ খেলেনি। প্রথমার্ধে বলের দখলে কিছুটা এগিয়েই ছিল পিটার বাটলারের মেয়েরা। শুধু তাই নয় বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণও গড়ে তুলেছিলেন ঋতুপর্ণারা। তবে গোলের দেখা পায়নি আফঈদার দল। উল্টো প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে উজবেকিস্তান একটি গোল করে এগিয়ে যায়। ফলে বিরতিতে বাংলাদেশ ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই ড্রেসিংরুমে ফেরে।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু আক্রমণে মনোযোগ বাড়াতে গিয়ে ডিফেন্সে ফাঁক তৈরি হয়। সেই সুযোগই কাজে লাগায় উজবেকিস্তান। ম্যাচের ৬২ ও ৬৬ মিনিটে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে আরও দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ। দুটি গোলের পেছনেই ছিল ডিফেন্ডারদের ভুল এবং সমন্বয়হীনতা। পরে ৮৭ মিনিটে উজবেকিস্তান আরেকটি গোল করলে বড় ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। যদিও গোলরক্ষক মিলি আক্তারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে করা উজবেকিস্তানের একটি গোল ভিএআরে বাতিল করা হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ পিটার বাটলার শামসুন্নাহার, প্রীতি ও হালিমাকে মাঠে নামিয়ে ম্যাচের চিত্র বদলানোর চেষ্টা করেন। সুইডিশ প্রবাসী ফুটবলার আনিকা শুরু থেকেই একাদশে ছিলেন, তবে তিনিও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। ফলে আক্রমণে ধার আনতে পারেনি বাংলাদেশ।
ম্যাচে বাংলাদেশের হাই-লাইন ডিফেন্স কৌশলও আবারও প্রশ্নের মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরেই এই কৌশল নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। উজবেকিস্তানের ফরোয়ার্ডরা বারবার বাংলাদেশের ডিফেন্স ভেঙে এককভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। এতে গোলরক্ষক মিলি আক্তার কয়েকবার একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েন।
উল্লেখ্য, ফিফা র্যাংকিংয়ে ৫৫ নম্বরে থাকা মিয়ানমারকে তাদের মাটিতে হারিয়ে এই টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তাই ৪৯ নম্বর র্যাংকিংয়ে থাকা উজবেকিস্তানকে হারানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং ৪ গোলের বড় জয় তুলে নিয়ে এখন কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে গেছে উজবেকিস্তান।
