রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে যেন স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো মাঠ। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার বক্সের ভেতরেই শুয়ে পড়েন হতাশায়। ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকার এগিয়ে এসে তাকে উঠানোর চেষ্টা করেন। শুধু মিলি নন, পুরো দলেই তখন বিষন্নতার ছাপ। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
ম্যাচটি হতে পারতো বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে অন্যরকম এক অধ্যায়। সিনিয়র নারী দল সম্প্রতি প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেললেও তিন ম্যাচেই হেরেছে। গোল পায়নি কোন ম্যাচেই। অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল সেই ব্যর্থতার ছাপ মুছে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল শুরুতেই। প্রথম ম্যাচেই দুই গোল এবং ৬৯ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকা। কিন্তু ম্যাচটি হারতে হলো ৩-২ গোলে।
ম্যাচের নায়িকা হয়ে উঠেছিলেন স্ট্রাইকার মোসাম্মৎ সাগরিকা। প্রথমার্ধে একক নৈপুণ্যে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। দ্বিতীয়ার্ধেও তার আরেকটি গোল বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। কিন্তু এই স্বপ্ন ভেঙে যায় অল্প সময়ের ব্যবধানে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর থাইল্যান্ডের আক্রমণের তীব্রতা বাড়ে। সেই চাপ সামলাতে গিয়ে বড় ভুল করেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা। সুরমা জান্নাত ও নবীরন পরপর দুটি আক্রমণে প্রতিপক্ষ ফরোয়ার্ডকে পেছন থেকে ফাউল করেন। রেফারি দু’বারই পেনাল্টি দেন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরে থাইল্যান্ড।
সমতা ফেরানোর পর থাইল্যান্ড আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ তখন কিছুটা বিচলিত। এই সুযোগে চমৎকার ওয়ান-টু পাসে ডিফেন্স ভেঙে তৃতীয় গোল আদায় করে তারা। ৮০ মিনিটে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ চেষ্টা করলেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
ম্যাচজুড়ে অবশ্য বাংলাদেশ লড়াই করেছে সমানতালে। কোচ পিটার বাটলারের হাই-লাইন ডিফেন্স কৌশল শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও বেশ কয়েকবার অফসাইড ট্র্যাপে ফেলেছে থাইল্যান্ডকে। গোলরক্ষক মিলিও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।
সাগরিকার দৃষ্টিনন্দন গোল
৩১ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া একটি থ্রু পাস ধরে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে প্রায় ৪৫ গজ দৌড়ে গিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন সাগরিকা। সেই গোল শুধু লিডই এনে দেয়নি, বরং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছে পুরো স্টেডিয়াম।
মিডফিল্ডার স্বপ্না রানীও দূরপাল্লার শটে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছেন, যদিও তাকে প্রথমার্ধেই বদলি করে নেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে ফলাফল হতাশাজনক হলেও এই ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা দেখিয়েছে সম্ভাবনার ঝলক। শক্তিশালী থাইল্যান্ডের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশার বার্তাই দেয়। তবে শেষ মুহূর্তের ভুলগুলোই যে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে, সেটিও স্পষ্ট।
