ইরান কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলতে পারবে?

গত ৩১ মার্চ তুরস্কের আনাতোলিয়ার টাইটানিক মারদান প্যালেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে কোস্টারিকার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচপূর্ব অনুষ্ঠানে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা যুদ্ধে নিহত শিশুদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল এবং ঐতিহাসিক ভবনগুলোর ছবি হাতে (ছবি: গেটি ইমেজেস)

গত ৩১ মার্চ তুরস্কের আনাতোলিয়ার টাইটানিক মারদান প্যালেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে কোস্টারিকার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচপূর্ব অনুষ্ঠানে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা যুদ্ধে নিহত শিশুদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল এবং ঐতিহাসিক ভবনগুলোর ছবি হাতে (ছবি: গেটি ইমেজেস)

ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি জানিয়েছেন, ফিফা যদি তাদের নির্ধারিত ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে অন্যত্র বিশেষ করে মেক্সিকোতে স্থানান্তর না করে, তাহলে আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে।

তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থার বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ইরান ফুটবল ফেডারেশন (আইএফএফ) ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে যাতে ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আয়োজন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফিফা।

আগামী বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে ইরানের গ্রুপপর্বের সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা এই সূচিকে জটিল করে তুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে তেহরান ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে শত্রুভাবাপন্ন দেশে গিয়ে খেলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।

ক্রীড়ামন্ত্রী দোনিয়ামালি বলেন,

“বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা খেলাটা যৌক্তিক নয়। খেলোয়াড়দের ওপর এমনিতেই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মানসিক চাপ থাকে। তার ওপর যদি শত্রুভাবাপন্ন দেশে খেলতে হয়, তাহলে স্বাভাবিক পারফরম্যান্স দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।” তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলা প্রায় অসম্ভব।”

তবে অনিশ্চয়তার মধ্যেও দলের প্রস্তুতি থেমে নেই। দোনিয়ামালি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান জাতীয় দল বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত থাকবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

যোগাযোগ রাখছে আইএফএফ

এদিকে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, তারা ফিফার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তার ভাষায়,

“আমরা চেষ্টা করছি যেন ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে আয়োজন করা হয়। এ বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

সূচি অনুযায়ী, ১১ জুন মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা। ইরান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষে। এরপর ২২ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়াম এর মুখোমুখি হবে এবং ২৬ জুন মিশরের বিপক্ষে সিয়াটলে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরের আগে ইরানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ফিফা পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কিনা, নাকি রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব মাঠের খেলাতেও পড়ে।

Exit mobile version