মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশন শুরু করলো বাংলাদেশ। এই মালদ্বীপের বিপক্ষেই গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ১১-০ গোলে জয় পেয়েছিলো ভারতীয় মেয়েরা। ফলে মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশও গোল উৎসব করবে এমনটা প্রত্যাশিত হলেও বাংলাদেশের জয় এসেছে লড়াই করে। অবশ্য এই জয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে মারিয়া মান্ডাদের।
তিন দলের এই গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের পাশাপাশি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারতও। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ১১-০ গোলে বিধ্বস্ত করে উড়ন্ত সূচনা করেছিল তারা। আগামী রোববার গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দী। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ম্যাচটি ড্র হলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে ভারত। ফলে হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে গোয়ায় আসা পিটার বাটলারের শিষ্যদের সামনে জয়ের কোনো বিকল্প নেই।
আক্রমণাত্মক শুরু ও দ্রুত গোল
চোটের কারণে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম ও মিডফিল্ডার মনিকা চাকমাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এই ম্যাচে অভিষেক হয় মিডফিল্ডার মোমিতা আক্তার ও ডিফেন্ডার সুরভি আক্তার আরফিনের।
তবে মাঠের লড়াইয়ে তার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি ফুটবলাররা। কিক অফের ঠিক পরপরই প্রথম আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার চমৎকার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। জাতীয় দলের জার্সিতে চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথম গোলের দেখা পেয়ে বাঁধনহারা উল্লাসে মাতেন সুইডেন প্রবাসী এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে বাংলাদেশ। ৩ মিনিটে ঋতুপর্ণার কর্নার সরাসরি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ২৮ মিনিটে মারিয়া মান্দার ক্রসে শামসুন্নাহার জুনিয়রের শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হলে ব্যবধান বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে ৩৪ মিনিটে আর ভুল হয়নি; শামসুন্নাহারের পাস থেকে জোরালো শটে ব্যবধান ২-০ করেন উমহেলা মারমা।
রক্ষণের ভুল ও মালদ্বীপের ঘুরে দাঁড়ানো
দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ৪১ মিনিটে মাঝমাঠের একটি বল ধরে মারিয়াম নুরা বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তারকে পরাস্ত করলে ব্যবধান কমায় মালদ্বীপ (২-১)।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের রক্ষণ আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ডিফেন্ডার আফঈদা খাতুনের মারাত্মক ভুলে বল পেয়ে যান আমিনাথ ফাজলা। ঝাঁপিয়ে পড়া মিলির ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে মালদ্বীপকে ২-২ গোলের সমতায় ফেরান তিনি।
প্রীতি ও কোহাতির গোলে জয় নিশ্চিত
পরিস্থিতি সামাল দিতে কোচ বাটলার মাঠে নামান শাহেদা আক্তার রিপা ও গত সাফের সর্বোচ্চ গোলদাতা তহুরা খাতুনকে। আক্রমণভাগের ধার বাড়তেই ৬৪ মিনিটে আবার লিড নেয় বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার ক্রস মালদ্বীপের গোলরক্ষকের হাত থেকে ফস্কে গেলে সামনে থাকা সুরভি আকন্দ প্রীতি ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠান।
আর ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (ইনজুরি টাইম) ঋতুপর্ণার ফ্রি-কিক থেকে চমৎকার হেডে গোল করে বাংলাদেশের ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন কোহাতি কিসকু।
গ্যালারিতে বিশেষ সমর্থক: এই ম্যাচে মারিয়া-ঋতুপর্ণাদের জন্য গ্যালারি থেকে অনবরত গলা ফাটিয়েছেন ছয়জন রাশিয়ান সমর্থক। বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা যে হোটেলে অবস্থান করছেন, সেখানেই থাকছেন এই রাশিয়ানরা। একসাথে ভলিবল খেলার সূত্রে তৈরি হওয়া বন্ধুত্ব থেকেই ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ স্লোগানে পুরো ম্যাচ জুড়ে গ্যালারি মাতিয়ে রাখেন তারা। বন্ধুদের এই জয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন তারাও।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















