লা লিগা হঠাৎ করে একপেশে হয়ে পড়েছে। চলমান মৌসুমে একচ্ছত্র আধিপত্য বার্সেলোনার। শিরোপার পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে তারা। এবার তারা রিয়াল মাদ্রিদের কাছে গার্ড অব অনার পেতে পারে।
বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ- উভয় দলের আটটি করে খেলা বাকি রয়েছে। এই আট খেলার মধ্যে ২৪ পয়েন্টের মধ্যে ৯ পয়েন্ট পেলে বার্সেলোনা শিরোপা জয় করবে। বার্সেলোনা পরের তিন ম্যাচে জয় পেলেই রিয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকে গার্ড অব অনার পাবে। এই তিন ম্যাচে বার্সেলোনা খেলবে সেল্টা ভিগো, গেতাফে ও ওসাসুনার বিপক্ষে। এই তিন ম্যাচে পরই এল ক্ল্যাসিকো। অর্থাৎ সেল্টা ভিগো, গেতাফে ও ওসাসুনার বিপক্ষে জয় পেলেই শিরোপার জন্য প্রয়োজনীয় পয়েন্ট বার্সেলোনার একাউন্টে জমা হবে। পরের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে। আর তখনই হতাশাকে সঙ্গী করে চির প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে শিরোপা জয়ের জন্য সম্মান জানাতে হবে রিয়াল মাদ্রিদকে।
পয়েন্ট হারানোর লড়াই রিয়ালের
বিশেষ করে সর্বশেষ সাত ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স বার্সেলোনা বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। রিয়াল মাদ্রিদ যেন পয়েন্ট হারানোর লড়াইয়ে মেতে ওঠে। সর্বশেষ সাত ম্যাচের চারটিতেই তারা পয়েন্ট হারিয়েছে। এর মাঝে তিন ম্যাচে হেরেছে। এক ম্যাচে করেছে ড্র। অর্থাৎ সাত ম্যাচ থেকে তারা পয়েন্ট পেয়েছে ১০, আর হারিয়েছে ১১ পয়েন্ট। দলটির বর্তমান পয়েন্ট ৩১ ম্যাচে ৭০, আর বার্সেলোনার সমান ম্যাচে ৭৯।
লিগের শেষ পর্যায়ে এসে এই ব্যবধান বার্সেলোনা শিরোপার স্বাদ পেতে শুরু করেছে। বাকি ৮ ম্যাচের চারটিতে জয় পেলেই তাদের শিরোপা জয় নিশ্চিত হবে।
সুসংবাদটা আগেই পেয়েছিল বার্সেলোনা
সুসংবাদটা আগেই পেয়েছিল বার্সেলোনা। আগের দিন রিয়াল মাদ্রিদ ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছিল। ফলে বার্সেলোনার জন্য পথটা একটু সহজ করার সুযোগ আসে। সে সুযোগটা তারা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে। টরেস ম্যাচের শুরুতেই গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। নবম ও পঁচিশতম মিনিটে জোড়া গোল করেন তিনি। তার উভয় গোলের রূপকার ছিলেন ইয়ামাল। দুই গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।
ইস্পানিওলের ফেরার চেষ্টা
বিরতির পর ইস্পানিওল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। তাদের সে চেষ্টা কিছুটা হলেও সফল হয়। শুরুতেই ব্যবধান কমায় সফরকারী দলটি। ৫৬ মিনিটের সময় পল লোজানো গোল করে একদিকে যেমন ব্যবধান কমান তেমনি ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে শেষ সময়ে ইস্পানিওলকে হতাশায় ডোবায় বার্সা। শেষ সময়ে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। ৮৭ মিনিটে ইয়ামাল এবং ৮৯ মিনিটে রাশফোর্ড স্কোরশিটে নাম লেখান।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে প্রায় ছিটকে পড়ায় অবস্থায় বার্সেলোনা। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে পিছিয়ে রয়েছে দলটি। ইস্পানিওলের বিপক্ষে পাওয়া এ জয় হয়তো তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফিরতে লেগের ম্যাচে ভালো করার পথ দেখাতে পারে।
