উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। মঙ্গলবার রাতে আতলেতিকো মাদ্রিদকে বিদায় করে ইংলিশ ক্লাবটি ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে। শিরোপা লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ত জার্মেই ও জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। ৫-৪ গোলে এগিয়ে থাকা প্যারিস সেন্ত জার্মেইকে আতিথেয়তা দেবে বায়ার্ন মিউনিখ।
প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা আগুন এক ম্যাচ উপভোগ করেছিল। গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন খেলোয়াড়রা। যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। কেভিচা কাভারাতস্কেলিয়া ও ওসমানে দেম্বেলে পিএসজি’র হয়ে দুটো করে গোল করেছিলেন।
ম্যাচে ঘটেছিল নাটকীয় সব ঘটনা। দুই মিনিটের ব্যবধানে বায়ার্নের জালে দুইবার বল পাঠানোরও কৃতিত্ব দেখিয়েছিল প্যারিস সেন্ত জার্মেই। তার জবাবটা বায়ার্ন দিয়েছিলেন তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে। গোলের শুরু ও শেষটা বায়ার্ন করলেও মাঝে পিএসজি’র গোল সংখ্যা বেশি থাকায় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বায়ার্নকে।
বায়ার্নের প্রতিশোধের পালা
নিজেদের মাঠের খেলায় এবার বায়ার্নের প্রতিশোধ নেওয়ার পালা। প্রতিশোধ নিতে ব্যর্থ হওয়ার অর্থ বায়ার্নের বিদায়। আর প্যারিস সেন্ত জার্মেই তাদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে শেষ ধাপে পৌঁছে যাওয়া। শিরোপা লড়াইয়ে শেষ ধাপে পৌঁছাতে উভয় দল যে নিজেদের প্রথম লেগের ম্যাচের মতো উজাড় করে দেবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
নিজেদের মাঠে খেলার সুবাদে বায়ার্ন মিউনিখ যে একটু বাড়তি সুবিধা পাবে তা ভালো করেই জানেন বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। প্রথম লেগে পিছিয়ে থাকার ব্যর্থতা মুছে ফেলতে আজ শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপানোর পরিকল্পনা কোচের।
ঘরোয়া লিগে স্বস্তিতে উভয় দল
ঘরোয়া লিগে উভয় দলই বেশ স্বস্তিতে রয়েছে। বায়ার্ন তো এরই মধ্যে শিরোপা জয় নিশ্চিত করেছে। পিএসজিও তাই। বায়ার্ন প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে ঘরোয়া লিগে ৩২ ম্যাচে ১১৬ গোল করেছে। বুন্দেসলিগায় তো বটে ইউরোপের যে কোনো ক্লাবের থেকে বেশি গোল করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রক্ষণভাগটা সামাল দিতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। সর্বশেষ ছয় ম্যাচে মাত্র একটা ম্যাচে তারা গোল হজম থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ সময়ে তাদের জালে বল গেছে ১৬ বার।
মুখোমুখি লড়াই
মুখোমুখি লড়াইয়ে হাড্ডাহাড্ডি অবস্থা। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে জয় বায়ার্নের। পিএসজি জয় পেয়েছে দুইটিতে। মোট লড়াই হয়েছে ১৭ বার। কোনো ম্যাচই অমীমাংসিত থাকেনি। বায়ার্ন জয় পেয়েছে ৯ বার, বাকি আটবার সাফল্যের হাসি হেসেছে পিএসজি।
