নাজুক অবস্থা রিয়াল মাদ্রিদের। ঘরোয়া লিগে শিরোপা লড়াই থেকে তারা প্রায় ছিটকে গেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও একই পরিণতির দিকে এগুচ্ছে দলটি। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের খেলায় বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে গেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। ২-১ গোলে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই হার তাদের সেমিফাইনালে ওঠার পথটা কঠিন করে দিয়েছে। অন্যদিকে বায়ার্ন সেমির দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে গেল।
বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোল করেছেন লুইস দিয়াজ ও হ্যারি কেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ব্যবধান কমিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এ জয়ের ফলে বায়ার্ন মিউনিখ সেমিফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে গেল। আগামী সপ্তাহে ফিরতি লেগের ম্যাচ নিজেদের মাঠের খেলা বিধায় তারা অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে। ২০২৩-২৪ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলার হাতছানি তাদের সামনে।
ইতিহাস বায়ার্নের সামনে
ইতিহাস এখন বায়ার্নের সামনে। বায়ার্ন মিউনিখ যখন প্রথম লেগের খেলায় এগিয়ে থেকেছে তখন তাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গত ১৩ মৌসুমে এগিয়ে থাকার পর ১২ বারই তারা পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছেছে।
বায়ার্নের বিশাল সাফল্য
বায়ার্নের জন্য এ ম্যাচটি বিশাল এক সাফল্য। রিয়াল মাদ্রিদের সামনে পড়লে তারা যেন খেই হারিয়ে ফেলতো। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে তাদের জন্য জয় নামক শব্দটি ছিল যেন অচ্ছুত। টানা ৯ ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেয়েছে তারা। কোনো এক একক দলের বিপক্ষে এটাই বায়ার্ন মিউনিখের জয়হীন থাকার দৌড়।
রিয়াল মাদ্রিদের ঠিক বিপরীত অবস্থা বায়ার্ন মিউনিখের। রিয়াল মাদ্রিদ ঘরোয়া লিগে যেমন নাজূক অবস্থায় তেমনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখ যেমন ঘরোয়া লিগে শিরোপা জয়ের সুবাস পাচ্ছে, তেমনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও।
পাঁচ মিনিটে জোড়া গোল
বায়ার্ন মিউনিখ মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোলের দেখা পায়। তবে গোল দুটো হয়েছে দুই অর্ধে। ৪১ মিনিটে দিয়াজ গোল করেন। আর কেন গোল করেন ৫৬ মিনিটে। তবে এ ম্যাচে কেনের খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। ইনজুরির কারণে ঘরোয়া লিগের সর্বশেষ ম্যাচে তিনি খেলেননি। ফলে এ ম্যাচে তার খেলা হবে কিনা তা সন্দেহ ছিল। শেষ পর্যন্ত মাঠে নামেন তিনি এবং গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
হ্যারি কেনের কীর্তি
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই না হতেই গোল করেন কেন। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ২০ সেকেন্ড। মৌসুমে এটা তার ৪৯তম গোল। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ১১তম গোল। কোন এক একক মৌসুমে এটাই তার সর্বাধিক গোলের কীর্তি।
