২০১০ সালের শুরুর দিকে বিশ্ব ফুটবলে এক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল বেলজিয়ামের কথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ বা স্বর্ণালী প্রজন্ম। ইডেন হ্যাজার্ড, ভিনসেন্ট কোম্পানি, কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু ও থিবো কোর্তোয়াদের মতো তারকাখচিত দলটিকে নিয়ে ফুটবলবিশ্ব ধারণা করেছিল যে, তারাই শাসন করবে আন্তর্জাতিক ফুটবল।
দীর্ঘ সময় ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও বড় কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা উঁচিয়ে ধরা হয়নি তাদের। এই সোনালী প্রজন্মের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অর্জন ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান লাভ। তবে অতীত ব্যর্থতা ভুলে আগামী উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শেষবারের মতো বুক বাঁধছেন দলটির সোনালী প্রজন্মের তিন খেলোয়াড়। এই ত্রয়ীর সাথে যুক্ত হয়েছেন নতুন প্রজন্মের সুপার ফাইভ।
শেষ সুযোগের সামনে অভিজ্ঞ ত্রয়ী
সময় গড়িয়েছে, হ্যাজার্ড-কোম্পানিরা বুট জোড়া তুলে রেখেছেন। সেই স্বর্ণালী যুগের প্রতিনিধি হিসেবে এখন দলে টিকে আছেন কেবল তিনজন অভিজ্ঞ মুখ। নাপোলিতে খেলা ৩৪ বছর বয়সী কেভিন ডি ব্রুইনা ও ৩৩ বছর বয়সী রোমেলু লুকাকুর সাথে আছেন ৩৪ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদের গোলপোস্টের প্রাচীর থিবো কোর্তোয়া।
সাবেক কোচ ডোমেনিকো টেডেসকোর সাথে ঝামেলার কারণে ২০২৪ সালের ইউরো কাপের শেষ ১৬-র ম্যাচটি মিস করেছিলেন কোর্তোয়া। তবে গত বছর সব বিরোধ চুকিয়ে আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন এই তারকা গোলরক্ষক। এই তিন অভিজ্ঞ সেনানি ভালো করেই জানেন যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের হয়ে অধরা কোনো ট্রফি জেতার এটাই তাদের ক্যারিয়ারের শেষ সুযোগ।
তরুণদের কাঁধে নতুন স্বপ্ন
অভিজ্ঞদের এই শেষ মিশনের বড় শক্তি হতে পারে বেলজিয়ামের বর্তমান স্কোয়াডের একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। দলে এখন আর প্রতিভার অভাব নেই। নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের মধ্যে যাদের নিয়ে ভক্তরা স্বপ্ন দেখতে পারেন,
- জেরেমি ডকু
- আমাদু ওনানা
- চার্লস ডি কেটেলিয়ার
- ইউরি তিয়েলেমানস
এই তরুণ তুর্কিরা মাঠের গতি ও ক্ষিপ্রতা দিয়ে প্রবীণ তারকাদের দারুণভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের এই মেলবন্ধনে ভর করেই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং বেলজিয়ামকে বিশ্বসেরার মুকুট পরাতে মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে ‘রেড ডেভিলস’রা।
বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দল
গোলরক্ষক: থিবো কোর্তোয়া, সেনে ল্যামেন্স, মাইক পেন্ডার্স।
ডিফেন্ডার: টিমোথি কাস্তানিয়া, জেনো ডেবাস্ট, ম্যাক্সিম ডি কুইপার, কোনি ডি উইন্টার, ব্র্যান্ডন মেচেলে, থমাস মুনিয়ের, নাথান এনগয়, জোয়াকিন সেস, আর্থার থিয়েট।
মিডফিল্ডার: কেভিন ডি ব্রুইনা, আমাদু ওনানা, নিকোলাস রাস্কিন, ইউরি তিয়েলেমানস, হান্স ভানাকেন, অ্যাক্সেল উইটসেল।
ফরোয়ার্ড: চার্লস ডি কেটেলিয়ার, জেরেমি ডকু, মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দো, রোমেলু লুকাকু, ডোডি লুকেবাকিও, ডিয়েগো মোরেরা, অ্যালেক্সিস সেলেমেকার্স, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড।
