দরজায় কড়া নাড়ছে চলছে ফিফা বিশ্বকাপ। তবে এই বিশ্বকাপ অনিশ্চিত থুরামের। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাতে চলবে ৪৮ দলের ফুটবল যুদ্ধ। আর বাকি ৬৬ দিন। ফিফা প্রতিদিনের পরিসংখ্যানমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে ক্ষণগণনা করছে।
এর আগে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ট্রফি জিতেছিল ফ্রান্স। ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। তবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ফরাসিরা পড়েছিল কঠিন চাপে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর বিরতি থেকে ফিরে গোল হজম করে ফ্রান্স।
তবে তারা পিছিয়ে ছিল মাত্র ৬৬ সেকেন্ড! এরপর থেকে বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে আর কোনো দল এর চেয়ে কম সময় পেছনে থাকেনি। একমাত্র ব্রাজিলই তাদের সবচেয়ে কাছাকাছি ছিল, ২০০২ সালের বিশ্বকাপে তুরস্কের বিপক্ষে পাঁচ মিনিট পেছনে ছিল সেলেসাওরা।
আলিজোসা আসানোভিচের বানিয়ে দেওয়া বলে ডেভর সুকার ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২৪ সেকেন্ডে ক্রোটদের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে দায় ছিল লিলিয়ান থুরামের। তার কারণেই অনসাইডে থেকে গোল করতে পেরেছিলেন সুকার।
থুরাম এই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে কোমর বেঁধেছিলেন। ৬৬ সেকেন্ড পর তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক গোলে সমতা ফেরালেন। শুধু স্কোর ১-১ করেই থামেননি এই রাইটব্যাক। তার বাঁ পায়ের শটে ৭০তম মিনিটের গোলে বিজয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
তবে ফ্রান্সের এই জয়ে থুরামের জোড়া গোল বলতে গেলে সবার কাছেই ছিল অবিশ্বাস্য-অকল্পনীয় কোনো ঘটনা। জাতীয় দলের জার্সিতে ১৪২তম ম্যাচে এসে প্রথম গোল! আরও আশ্চর্যের ব্যাপার, ক্লাব পর্যায়ে সব প্রতিযোগিতা মিলে ১১ মৌসুমে যার গোল মাত্র ছিল একটি, তিনিই কি না করলেন দুই গোল!
থুরামের গর্ভধারিণী মা-ও যেন বিশ্বাস করতে পারেননি, তার ছেলে দুই গোল করেছে। ফরাসি রাইট ব্যাক বলেছিলেন, ‘আমার মা স্ট্যান্ডে ছিলেন। তাকে পাশের লোকেরা বলছিল যে তার ছেলে প্রথম গোল করেছে— তিনি তখন বুঝতে পারেননি। যখন তারা বলল, আমি আবারো গোল করেছি। সেটা শুনে তো জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন তিনি। আমি কিন্তু মজা করছি না।’
