আরও একটা বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে গেলো চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। গ্রুপ পর্বে ব্যর্থ দলটার সামনে সুযোগ ছিলো প্লে-অফ ফাইনাল খেলে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার। কিন্তু বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মাঠ থেকে তাদের ফিরতে হলো শূন্য হাতে। ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে আজ্জুরিরা টাইব্রেকে ব্যর্থ হয়। বিপরীতে ৪-১ গোলের জয় ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলো বসনিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণের দিক থেকে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে বসনিয়া। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিলো না। তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। দুর্দান্ত সেভ করে ইতালিকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি। অন্যদিকে, ম্যাচের শুরুতে পাওয়া লিড ধরে রাখতে পারেনি ইতালি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হলে ইতালি। একজন কম নিয়ে লড়াই করে ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হেরেছে ৪-১ গোলে।
ইউরোপ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ ফাইনালে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১। কিন্তু টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় বসনিয়া। নিজেদের মাঠে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইতালি প্রথমে এগিয়ে যায় মোইজে কিনের গোলে।
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে প্রতিপক্ষের একটি বড় ভুল থেকে এগিয়ে যায় ইতালি। বসনিয়ার গোলরক্ষক সতীর্থের ব্যাক-পাস ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। বল তুলে দেন ইতালির মিডফিল্ডার নিকোলো বারেল্লার পায়ে। বারেল্লা দ্রুত বল বাড়িয়ে দেন সামনে থাকা কিনের দিকে। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান কিন।
এরপর থেকেই বসনিয়া আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে। কিন্তু দুর্বল ফিনিশিং ও দোন্নারুম্মার দৃঢ়তায় গোল পেতে ব্যর্থ হয় তারা। প্রথমার্ধের ৪১তম মিনিটে ইতালির জন্য বড় ধাক্কা আসে। বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া মেমিককে বক্সের বাইরে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন আলেস্সান্দ্রো বাস্তোনি। ফলে বাকি সময় ইতালিকে ১০ জন নিয়েই খেলতে হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়ার চাপ আরও বেড়ে যায়। ৬০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পান ইতালির কিন। কিন্তু একা গোলরক্ষকের সামনে পেয়েও তিনি শট উড়িয়ে দেন। এই মিসটি পরে ইতালির জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়।
বসনিয়ার সমতায় ফেরা
অবশেষে ৭৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে বসনিয়া। ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রসে এডিন জেকোর শট দোন্নারুম্মা ঠেকালেও, ফিরতি বলে কাছ থেকে জালে বল পাঠান হারিস তাবাকোভিচ। এরপর নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে উভয় দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোল হয়নি।
টাইব্রেকারে ইতালির হতাশা আরও বাড়ে। তাদের প্রথম শটই বাইরে মারেন এসপোসিতো, আর ব্রায়ান ক্রিস্তান্তের শট লাগে ক্রসবারে। অন্যদিকে বসনিয়ার প্রথম চার শটই জালে জড়ায়, যা তাদের নিশ্চিত জয় এনে দেয়।
অপেক্ষা বাড়লো ইতালির
এই হারের ফলে ইতালির জন্য বিশ্বকাপে ফেরার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। ২০১৪ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপে খেলেছিলো। আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো ২০০৬ সালে। আর ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর ২০২৬ আসরেও তারা দর্শক হয়ে গেলো।
অন্যদিকে, বসনিয়া ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে। এর আগে তারা ২০১৪ সালে তারা নিজেদের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলো।
ডেনমার্ককে হারালো চেক রিপাবলিক
ইউরোপের আরেক প্লে-অফ ফাইনালে ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে চেক রিপাবলিক। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ ও অতিরিক্ত সময় শেষে ২-২ গোলে অমীমাংসিত ছিল।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩











