২০০২ সালে সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে শিরোপাহীন অবস্থায় আছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। পঞ্চমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে বারবার প্রত্যাশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখতে পারেনি সেলেসাওরা। ‘হেক্সা মিশন’ নামে পরিচিত ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে গত কয়েকটি আসরে অংশ নিলেও প্রতিবারই হতাশ হতে হয়েছে তাদের। তবে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু মনে করেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হতে পারে ব্রাজিলের হেক্সা পূরণের আসর ।
২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের ম্যাচে ব্রাজিলের অধিনায়ক ছিলেন কাফু। তার নেতৃত্বেই দলটি পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে। এছাড়া ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপেও তিনি ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যেখানে পাসাডেনায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল। ফলে বিশ্বকাপের সাফল্যের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বর্তমান দলকে নিয়ে আশাবাদী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) মাদ্রিদ-এ অনুষ্ঠিত লরিয়াস অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাফু বলেন,
শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের ২৪ বছর পর এখনই সময় ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর। আমরা এমন একজন কোচ পেয়েছি, যিনি ধারাবাহিকভাবে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা রাখেন।
এখানে তিনি ইঙ্গিত করেছেন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি-র দিকে, যিনি তার কৌশলগত দক্ষতা দিয়ে দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন বলে মনে করেন কাফু।
ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে রক্ষণভাগকে আরও মজবুত করার ওপর জোর দিয়েছেন এই সাবেক ডিফেন্ডার। তার মতে,
“যদি ব্রাজিল বিশ্বকাপে গোল না খায়, তাহলে তারা প্রতিটি ম্যাচেই অন্তত একটি করে গোল করতে সক্ষম হবে।”
অর্থাৎ, আক্রমণভাগের দক্ষতার পাশাপাশি ডিফেন্সে স্থিতিশীলতা অর্জন করাই হবে শিরোপা জয়ের মূল উপাদান।
এছাড়া তরুণ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-এর দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছেন কাফু। তিনি বিশ্বাস করেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হতে পারে ভিনিসিয়ুসের জন্য নিজেকে বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করার সেরা সুযোগ। কাফুর ভাষায়,
বিশ্বকাপই হলো সব ধরনের বিতর্কের জবাব দেওয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। যদি ব্রাজিল ফাইনালে ওঠে, তাহলে সেই আটটি ম্যাচে ভিনিসিয়ুস পুরো বিশ্বকে দেখাতে পারবে, সে কতটা যোগ্য এবং ফুটবলে কী করতে পারে
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল। কাফুর মতো অভিজ্ঞ কিংবদন্তির বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও দলগত পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে ২০২৬ সালেই সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩





















