ফিফার বিরুদ্ধে মামলা দুই সংগঠনের

ফিফার বিরুদ্ধে মামলা দুই সংগঠনের

টিকিট মূল্য চড়া হওয়াতে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা, ছবি : সংগৃহীত

আর মাত্র কয়েক মাস বাকি ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে। কিন্তু টিকিটের চড়া দামের অভিযোগে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুই সংগঠন। ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ) এবং ইউরোপীয় ভোক্তা সংগঠনইউরোকনজিউমার্সযৌথভাবে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে ফিফার বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে।

টিকিট মূল্য বেশি হওয়ায় আয়োজক সংস্থা ফিফার ওপর চরম ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। ফিফার বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হয়েছে তাই সংগঠন দুটি। তাদের দাবি, টিকিটের বাজারে নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্যের অপব্যবহার করছে ফিফা।

একজন দর্শক যদি প্রতিটি রাউন্ডের একটি করে মোট ৮টি ম্যাচ দেখতে চান, তবে সর্বনিম্ন ক্যাটাগরির টিকিটের জন্য তাকে গুনতে হবে প্রায় ৫,২২৫ পাউন্ড (প্রায় ৭.৫ লক্ষ টাকা)। ২০২২ সালে ৭টি ম্যাচের জন্য এই খরচ ছিল মাত্র ১,৪৬৬ পাউন্ড। অর্থাৎ, মাত্র ৪ বছরে খরচ বেড়েছে প্রায় চারগুণ। সবচেয়ে দামি ক্যাটাগরিতে এই খরচ দাঁড়িয়েছে ১২,৩৫০ পাউন্ডে (প্রায় ১৭.৫ লক্ষ টাকা)।

ফিফার বিরুদ্ধে মামলা ও দাবি

সমর্থকদের অভিযোগ, ফিফা শুরুতে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে লোক দেখানো কিছু ‘সস্তা’ টিকিট (প্রায় ৬০ ডলার বা ৪৩০০ টাকা) ছাড়ে। কিন্তু বাস্তবে এই সস্তা টিকিটের সংখ্যা এতটাই কম যে সাধারণ সমর্থকদের কাছে তা পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। সমর্থক গোষ্ঠী এটিকে ‘বেইট অ্যাডভার্টাইজিং’ বা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন হিসেবে অভিহিত করেছে, যা ইউরোপীয় ভোক্তা আইনের পরিপন্থী।

বিশ্বকাপ টিকিটের মূল্য চড়া হওয়াতে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা, ছবি : সংগৃহীত

এফএসএ দাবি করেছে যে, ফিফাকে অবিলম্বের ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ (চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দাম কমানো-বাড়ানো) পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে। এছাড়া টিকিট বিক্রির অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে আসন সংখ্যা এবং ক্যাটাগরি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এফএসএ পরিচালক রোনান ইভেন বলেন, ‘ফিফা সমর্থকদের সামনে কেবল দুটি পথ খোলা রেখেছে। হয় চড়া দাম দাও, নয়তো খেলা দেখা বাদ দাও।’

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরে প্রায় ৭০ লক্ষ (৭ মিলিয়ন) টিকিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ফিফা। যদিও ফিফা দাবি করছে তাদের বিক্রয় পরিসংখ্যান অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। আর সমর্থকদের মতে এটি সাধারণ ভক্তদের আনুগত্যের সুযোগ নেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।

এবার বিশ্বকাপ নিয়ে এমনিতেই ভক্তদের মনে কাজ করছে অজানা শঙ্কা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার সঙ্গে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র জড়িত থাকার কারণে ইরানের হামলার শঙ্কায় আছে। যদিও বিশ্বকাপের ভেন্যু ও যাতায়াত ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৬২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ট অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়েনে সেই ফান্ডের অর্থ ছাড় এখন আটকে আছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, এই বিলম্বের ফলে বিশ্বকাপের মতো হাই-প্রোফাইল ইভেন্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজাতে হিমশিম খাচ্ছে শহরগুলো। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক আসবে, যাদের নিরাপত্তা দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পরিবহন সচিব শন ডাফি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। এর মধ্যে আবার টিকিটের মূল্য চড়া হলে সেটিও আসরের সাফল্য নিয়ে সংশয় থাকবে।

Exit mobile version