ইতালিয়ান কাপে বড় এক অঘটনের জম্ম দিয়েছে কোমো। নাপোলিকে স্তদ্ধ করে করে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছে দলটি। ইতালিয়ান কাপে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন নাপোলিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৪০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের শেষ চারে পৌঁছেছে কোমো। মঙ্গলবার অ্যাওয়েতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে অমীমাংসিত খেলায় ৭-৬ গোলে জয় পেয়েছে কোমো।
হঠাৎ করে কোমো জয় পেয়েছে তা নয়। ঘরোয়া লিগেও তারা দাপুটের সঙ্গে খেলে চলেছে। যদিও শিরোপা জয়ের কোনো সম্ভাবনা তাদের নেই তারপরও বড় দলগুলোর জন্য হুমকি হয়ে আছে দলটি। ঘরোয়া লিগে ২৩ ম্যাচ শেষে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে কোমো। সেখানে নাপোলির অবস্থান তিনে। ৪৯ পয়েন্ট তাদের।
কোয়ার্টার ফাইনালের আগে রাউন্ড অব সিক্সটিনেও চমক দেখিয়েছিল কোমো। সেখানে তারা হারিয়েছিল ফিওরেন্টিনাকে। বর্তমানে দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক তারকা খেলোয়াড় সেস ফেব্রেগাস। ১৯৮৬ সালের শেষবারের মতো ইতালিয়ান কাপের সেমিফাইনালে খেলা কোমো এবার ফাইনালে ওঠার জন্য ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবে। ইন্টার মিলান আগেই সেমিফাইনালে পা রেখেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা তুরিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। ৩ মার্চ সেমিফাইনালের প্রথম লেগ মাঠে গড়াবে। অন্য সেমিফাইনালের চূড়ান্ত লাইন আপ এখনো ঠিক হয়নি। আটালান্টা শেষ চারে খেলা নিশ্চিত করেছে। তাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ল্যাজিও ও বোলোনিয়া।
টাইব্রেকারের মতো নির্ধারিত সময়ের খেলায়ও চমক দেখিয়েছিল কোমো। প্রথমার্ধের শেষ সময়ে পেনাল্টি গোলে তারা এগিয়ে যায়। ৩৯ মিনিটে মার্টিন বাতুরিনার করা এই গোলের ব্যবধান বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। বিরতির পরপরই নাপোলি গোল পরিশোধ করে খেলায় ফিরে আসে। বাকি সময়ে কোনো দল আর গোল করতে পারেনি। যদিও উভয় একাধিক সুযোগ পেয়েছিল। সে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় জয়ী দল নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নিতে হয়।
নির্ধারিত প্রথম পাঁচ শটে উভয় দল চারটি করে শটে লক্ষ্যভেদ করে। নাপোলি দ্বিতীয় শটে গোল করতে ব্যর্থ হয়। বদলি খেলোয়াড় রোমেলু লুকাকু বাইরে মেরে নষ্ট করেন। কোমো তাদের চতুর্থ শট কাজে লাগাতে পারেনি। আর তখনই নাপোলি লড়াইয়ে ফিরে আসে। ফলে খেলা জমে ওঠে। নির্ধারিত পাঁচ শট শেষে ৪-৪ ব্যবধানে খেলা অমীমাংসিত থাকে। অষ্টম শটে এসে আবার গোল করতে ব্যর্থ হয় নাপোলি। তবে ব্যর্থতায় নাম লেখাননি কেম্প। তার শট জালে আশ্রয় নিতেই কোমোর সমর্থকরা আনন্দে মেতে ওঠে। অন্যদিকে নাপোলি হতাশায় ডুবে যায়।
