মেক্সিকোতে বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, তবু আশ্বস্ত ফিফা ও সরকার .বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন যতই শেষের দিকে এগোচ্ছে, ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়েও বাড়ছে আলোচনা। আর মাত্র ১৮ দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ, যেখানে এবার প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে তিন দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও কানাডা। তবে মেক্সিকোতে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার কারণে টুর্নামেন্ট ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশটির শীর্ষ মাদক কারবারি এল মেনচো সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর মেক্সিকোর একাধিক রাজ্যে তাণ্ডব চালায় তার অনুসারীরা। অপরাধজগতে নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস নামে পরিচিত এই ব্যক্তি কুখ্যাত হালিস্কো নিউ জেনারেশন মাদকচক্রের নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুর পর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠা চক্রের সদস্যরা হালিস্কো রাজ্যের বিভিন্ন মহাসড়ক অবরোধ করে এবং যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বিশেষ উদ্বেগের জায়গা হলো গুয়াদালাহারা। এল মেনচোর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই শহরেই বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা। মেক্সিকোর তিন ভেন্যু মেক্সিকো সিটি, মন্টেরি ও গুয়াদালাহারায় মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক হলেও সরকার ও ফিফা বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শিনবাম জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের জন্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও আশ্বস্ত করে বলেছেন, তারা মেক্সিকোর প্রস্তুতিতে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট এবং ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কার্টেল বা মাদকচক্রগুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে সরাসরি টার্গেট করে না। কারণ তাতে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়ে যায় এবং সামরিক অভিযানও তীব্র হতে পারে। তাই বিশ্বকাপের মূল আয়োজন বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা জোরদারে মেক্সিকো সরকারও বড় প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালে প্রায় এক লাখ সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। স্টেডিয়ামে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী রোবট, অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট এবং বিশেষ নজরদারি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। গুয়াদালাহারায় বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ফুটবলের উৎসব নির্বিঘ্নে শেষ করাই এখন মেক্সিকোর প্রধান লক্ষ্য।
