ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল । দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞের। দল ঘোষণা, প্রস্তুতি ম্যাচ, তারকাদের ফর্ম আর সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ইতোমধ্যেই সরগরম ফুটবলবিশ্ব। তবে বিশ্বকাপ ঘিরে কয়েকদিন ধরে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজার ভারতকে কেন্দ্র করে। শেষ পর্যন্ত সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে ফিফার কাছ থেকে বড় অঙ্কের ছাড়ে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব নিশ্চিত করেছে দেশটি।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব চুক্তির মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানা গেছে। এর ফলে তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ভারতের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।
তবে এই চুক্তির কারণে আর্থিকভাবে বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে ফিফাকে। শুরুতে ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করার পরিকল্পনা ছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির। কিন্তু সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনাগ্রহ ও দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত অনেক কম মূল্যে স্বত্ব ছাড়তে হয়েছে তাদের।
এদিকে ক্রিকেটবিশ্বে আইসিসির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের প্রতি বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ভারতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সমালোচনা প্রায়ই ওঠে। এবার ফিফাও যেন অনেকটা সেই পথেই হাঁটল বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্য বড় সম্প্রচার সংস্থাগুলো সরে যাওয়ার পর ভারতের জি এন্টারটেইনমেন্ট ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পেতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারত এখন ফিফার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক অঞ্চল। ইউরোপীয় লিগ ও বিশ্বকাপ ঘিরে দেশটিতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
শুধু ভারত নয়, এশিয়ার আরও কয়েকটি বড় বাজারেও নমনীয় বাণিজ্যিক কৌশল নিতে হয়েছে ফিফাকে। জানা গেছে, চীনও আগের আসরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ ছাড়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না মিডিয়া গ্রুপ ইতোমধ্যেই ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ চক্রের জন্য ফিফার সঙ্গে বহুবর্ষী চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
