শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নিষিদ্ধ দেশসেরা শুটার কলি

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নিষিদ্ধ দেশসেরা শুটার কলি

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নিষিদ্ধ দেশসেরা শুটার কলি, ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে কামরুন নাহার কলিকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এবার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে দেশের শীর্ষেএই নারী শুটারকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন (বিএসএসএফ)। ফলে কোনো ধরণের শুটিং কার্যক্রম চালাতে পারবেন না তিনি।

গত ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির সভার প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি কামরুন নাহার কলির নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে। কলিকে পাঠানো সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম স্বাক্ষরিত নিষেধাজ্ঞার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ফেডারেশনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের আচরণবিধির সাতটি ধারার বিধি লঙ্ঘন করেছেন।

নিষিদ্ধ হলেন কলি, ছবি : সংগৃহীত

কলির বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ

কলির বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে বিশেষ করে, গত ২৫ জানুয়ারি বিএসএসএফের কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা সেখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে। চিঠির ভাষ্যমতে, তদন্ত কাজে আসা একজন পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কলি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি চরম অশালীন, অপমানজনক, হুমকিমূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কলির ওই আচরণ ফেডারেশনের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকে মারাত্বকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। তাই ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রের ১৬.২০ ও ১৬.২১ ধারা অনুযায়ী তাকে আগামী এক বছরের জন্য সব ধরনের শুটিং কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফেডারেশনের সঙ্গে তিক্ততার জের?

শুটিং ফেডারেশনের সঙ্গে অবশ্য অনেক দিন ধরেই সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে কলির। কারণ, এই শাস্তির বেশ আগেই কলি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। সেজন্যই কলির ওপর এই নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে এসেছে কিনা তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও বিএসএসএফ তা নাকচ করে দিয়ে বলছে যে, তার ওপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত।

কলির আছে আন্তর্জাতিক সাফল্য, ছবি : সংগৃহীত

কলি বাংলাদেশের একমাত্র শুটার যিনি ২০২২ সালে মিশরে অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের বাছাইপর্বে ৬২৯ স্কোর করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। দেশের শুটিংয়ে এমন একজন দক্ষ অ্যাথলেটের অনুপস্থিতি জাতীয় দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ফেডারেশনের বর্তমান অস্থিরতার মাঝে শায়রা আফরিনের মতো আরেক শীর্ষস্থানীয় শুটারও খেলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

Exit mobile version