টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ায় দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে। ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক আবার ঠিক হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন নাজমূল আবেদিন ফাহিম। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের এই চেয়ারম্যান ভারতীয় বোর্ডকে পাঠানো চিঠির বিষয়টি নিয়ে কথার সময় এমন মন্তব্য করেন।
ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক খারাপ হয়েছে মূলত মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশ দলের। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে সরে যায় বাংলাদেশ। পরবর্তীতে বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যে চলা অস্থিরতা কাটাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশের বোর্ড।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি। গণমাধ্যমে বিষয়টি আসার পর এবার এ নিয়ে কথা বলেন ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম। আজ বোর্ড মিটিং শেষে তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ নারী দলের ভারতে যাওয়ার কথা ছিল যা স্থগিত হয়ে যায়। এ ব্যাপারেই বিসিসিআইকে মেইল করা হয়েছে।’
তিনি জানিয়েছেন, এ ধরণের মেইল রুটিন ওয়ার্কের অংশ। ফাহিম বলেন,‘সামনে যেসব ইভেন্ট আছে ভারতীয় বোর্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট, এসব নিয়েও যোগাযোগ হয়েছে। এটা আমরা নিয়মিত অন্য বোর্ডের সাথেও করি। আশা করছি দ্রুত ওদের উত্তর পাব। সে অনুযায়ী তাদের সাথে যোগাযোগ হবে।’
ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠনের আশা
ভারত অবশ্য এখনও বিসিবিকে জবাব দেয়নি। দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক ঠিক হয়ে যাওয়ার আশাবাদ নিয়ে ফাহিম বলেন,’আমরা ভারতকে মেইল করেছি, এই মেইলে সেটা ছিল। আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে আমাদের আতিথেয়তা দিবে। বিশ্বকাপকে ঘিরে সম্পর্ক কিছুটা অবনতি হয়েছে অবশ্যই। আশা করছি এই সম্পর্ক ঠিক হয়ে যাবে। আশা করি এসব এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে আবারো ভালো অবস্থান তৈরি হবে।’
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস একটি প্রতিবেদনে দাবি করে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি। অবশ্য বিসিবি থেকে দাবি করা হয়েছে, এই চিঠি পাঠানো হয়েছে গত মাসেই।
গত সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল (৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি), যা বিসিসিআই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছিল। বিসিবি এখন সেই সিরিজটি পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। আবার আগামী বছর ভারতের সম্ভাব্য সফর নিয়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে চায় বাংলাদেশ। এছাড়া আগামী বছর এশিয়া কাপ আয়োজনের স্বত্ব বাংলাদেশের কাছে থাকায়, ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও বিসিবির অন্যতম লক্ষ্য।
