যুদ্ধের মাঝেই দেশে ফিলে সংবর্ধনা পেল ইরানের নারী ফুটবলাররা। নিজ দেশ ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আক্রান্ত। ঠিক তখন তাদের নারী ফুটবল এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছিল। সেখানে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে জাতীয় সংগীত চলাকালে চুপ থাকাকে কেন্দ্র করে তোপের মুখে পড়েন ফুটবলাররা।
দখন তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’আখ্যা দিয়ে শাস্তির দাবি তোলেন রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের এক উপস্থাপক। এরপর ইরানি ফুটবলারদের অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে কম জলঘোলা হয়নি। অবশেষে দেশে ফিরেছেন ফুটবলাররা, পেয়েছেন সংবর্ধনাও।
রাজধানী তেহরানে পৌঁছানোর পর ফুটবল দলের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই আয়োজন টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এশিয়ান কাপে তিন ম্যাচের সবকটিতেই পরাজিত দলটি মূলত আলোচনায় ছিল ‘অ্যাসাইলাম’ ইস্যুতে।
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী ইরানিরা ফুটবলারদের সেখানেই আশ্রয় নেওয়ার আহবান জানায়, একইসঙ্গে বিক্ষোভ করে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানি ফুটবলাদের আশ্রয়ের আহবান জানান অস্ট্রেলিয়া সরকারকে। পরে দেশটির আহবানে সাড়া দেন ৭ ফুটবলার। যদিও পরে একে একে তাদের ৫ জনই মত বদলে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
অধিকারকর্মীদের অভিযোগ-ইরানি কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে। এমনকি অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। তবে তেহরান দাবি করেছে, অস্ট্রেলিয়াই খেলোয়াড়দের দেশত্যাগে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছে। দলের দুই সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেলেও, বাকিরা মালয়েশিয়া, ওমান এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুল হয়ে সড়কপথে গুরবুলাক-বাজারগান সীমান্ত দিয়ে বুধবার ইরানে ফিরেছেন।
অবশ্য অ্যাসাইলামের প্রস্তাব উপেক্ষা করে দেশে ফেরা ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের স্বাগত জানাতে তুরস্ক-ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় হাজির হয়েছিলেন নারী-শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ লিখেছেন, ‘এই খেলোয়াড়রা মাতৃভূমির সন্তান, এবং ইরানের জনগণ তাদের বরণ করে নিচ্ছে। দেশে ফিরে তারা ইরানের শত্রুদের হতাশ করেছে এবং বিভ্রান্তি ও ভীতির কাছে আত্মসমর্পণ করেনি।’
