গত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল ঢাকা ক্যাপিটালসের বকেয়া তিন কোটি টাকা। দলটির ক্রিকেটাররা বকেয়া অর্থ এখনও না পাওয়ার অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানিয়েছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের বকেয়া অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের সমুদয় অর্থ তিন ধাপে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যেই পরিশোধ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঢাকা ক্যাপিটালস প্রায় দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও টাকা পরিশোধ করেনি। এ নিয়ে ক্রিকেটাররা বারবার অভিযোগ জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে আজ মিঠু বলেছেন,‘২৫ শতাংশ খেলার আগে, ৫০ শতাংশ খেলা চলাকালীন আর ২৫ শতাংশ ৪৫ দিনের মধ্যে দিয়ে দেওয়ার কথা। সব দল দিয়ে দিয়েছে, আপনারা জানেন। এখন তারা (ঢাকা ক্যাপিটালস) বাকি। তো খেলোয়াড়রা একটা কথা বলছে, উনি এক কথা বলছেন। তো উনাকে আমি একটা মেসেজও দিয়েছি যে ঠিক আছে, আপনি খেলোয়াড়দের সামনে আসেন, আমরা সমাধান করি। আমরা খেলোয়াড়দের কথাই শুনব, ফ্র্যাঞ্চাইজির কথা শুনব না।’

মিঠু আরও বলেছেন, ‘আমরা বহুবার চিঠি দিয়েছি। ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখ সবাইকে ১৫ দিন দিয়ে আমরা একটা চিঠি দিয়েছি যে আপনারা আমাদের সব খেলোয়াড়দের হিসাব দিয়ে জানান। অন্যান্য দল যতটুকু পেরেছে তারপর তারা আমাদের যোগাযোগ করে আমাদের কাছে টাকা তাদের কাছে ছিল সেখান থেকে টাকা পরিশোধ করে দিতে বলছে। আমরা পরিশোধ করে দিয়েছি। কিন্তু বার বার ঢাকাকে আমরা চিঠি দিয়েছি।’
ঢাকা ক্যাপিটালসের বকেয়া
মিঠু জানিয়েছেন এবার একটা পদক্ষেপ নেবে বিসিবি। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, চিঠি দেওয়ার পরে গত ঈদের আগে সব পরিশোধ করে দেওয়ার কথা। কিন্তু আমরা তো ওনার কথায় চলব না, আমরা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছি যে এখনও তাদের বিশাল পরিমাণ টাকা বাকি- তিন কোটি টাকার বেশি। আজ ৬০ দিন হয়ে গেছে। ধৈর্যের একটা সীমা আছে। সুতরাং আমরা এই সপ্তাহেই আমরা একটা পদক্ষেপ নেব।’
ঢাকা টাকা না দিলে বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে বলে মিঠু জানিয়েছেন, ‘আমাদের কাছে ওনাদের পাঁচ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি আর পাঁচ কোটি টাকার চেক আছে। সুতরাং ওনারা যদি আজ কালকের মধ্যে টাকা না দেয় তাহলে তো আমাদের অন্য পন্থায় যেতেই হবে। আমাদের আর উপায় নেই।’
ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের টাকা নিয়ে চিন্তা করছেন না মিঠু। তিনি বলেছেন,‘খেলোয়াড়দের টাকা নিরাপদ থাকবে। ব্যাংক গ্যারান্টির একটা সময় থাকে। একটা ব্যাংক গ্যারান্টি এর সময় হচ্ছে ১৫ই মে। তার মানে প্রায় আরও আমাদের দেড় মাস আছে। আর একটা আছে বোধহয় ছয় মাস। সুতরাং ঐটা নিয়ে চিন্তিত না। কিন্তু, ঢাকার ম্যানেজমেন্ট যদি এই সপ্তাহে আর না দেয় তাহলে তো সময় নেই। আমার কথাটা বুঝছেন যে, ৬০ দিন পর্যন্ত যাওয়া হয়েছে তারপর আর কতদিন (সময়) দেব?’

বকেয়ার বিষয়টি খেলোয়াড়রা আগে বলেননি
মিঠুর দাবি খেলোয়াড়রা আগে থেকে কিছু জানায়নি। বিসিবি থেকেই যোগাযোগ করে বিষয়টি জানা গেছে। মিঠু বলেছেন,‘খেলোয়াড়রা কিন্তু আমাদের আগে জানায়নি । তারা মাত্র ২৫ শতাংশের মতো পেয়েছে। ঐখান থেকে জানলে আমরা চাপ দিতাম। ফাইনাল এর পরে জানতে পারলাম যে ওদের প্রায় ৭৫ শতাংশ বাকি তখন সবার সাথে আমাদের যোগাযোগ করতে হয়েছে। মানে, আপনার পাওনা টাকা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে হয়েছে আমার।’
বকেয়া অর্থের পরিমাণ আরও বেশি ছিল। কিন্তু এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে এগোবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। এ বিষয়ে মিঠু বলেন,‘আমাদের ঐ খেলোয়াড়রা যে হিসাব দিয়েছে সেই অনুযায়ী তারা প্রায় ৪ কোটি টাকা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ সপ্তাহ আগে ওরা কিছু কিছু খেলোয়াড়দের টাকা দিয়েছিলো ৫০- ৬০ লাখ টাকার মতো । কিন্তু সেটিও পর্যাপ্ত নয় । আমাদের তো একটা সময়ের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা তো সারাজীবন এটা খোলা রাখতে পারব না। সুতরাং গভর্নিং কাউন্সিলের আমরা সোমবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেব।’
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















