বিশ্ব ফুটবলে কয়েকদিন আগে ঘটেছে এক মহা বিপর্যয়ের ঘটনা। টানা তিনবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী দল ইতালি। যে ব্যর্থতার দায় ধরে ইতালিয়ান ফুটবলে ঘটে যাচ্ছে একের পর এক ওলোটপালোট ঘটনা।
সাধারণ মানুষ তো বটেই রাজনীতিবিদরা জাতীয় ফুটবল দলের এই বিপর্যয় মেনে নিতে পারেনি। ফুটবলের দলের এই বিপর্যয়ের সময় তারা চুপ থাকতে পারেননি। গর্জে উঠেছেন। তাদের গর্জনে সরে যেতে হয়েছে ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনাকে। শুধু প্রেসিডেন্ট নয়, সরে যেতে হয়েছে জাতীয় দলের নির্বাচক গিয়ানলুইগি বুফনকে। একই পথ ধরতে হতে পারে কোচ জেনারো গাতুসোকে।
পরিবর্তনের আহ্বান
ইতালির ক্রীড়া মন্ত্রী আন্দ্রে আবোদি ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্ব পরিবর্তন আনার আহ্বান জানানোর পর একের পর এক এই পরিবর্তন আসছে। বুধবার ক্রীড়ামন্ত্রী আবোদি বলেন, এটা ঠিক যে, ইতালির ফুটবল ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইয়ে এবার ইতালি সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ হারায়। ফলে তাদেরকে প্লে অফে অংশ নিতে হয়। সেখানেও তারা ব্যর্থ হয়। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা টাইব্রেকারে হেরে যায়। দুর্ভাগ্য ইতালির। প্লে অফের নির্ধারিত সময়ের খেলার শুরুতে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল দলটি। কিন্তু শেষ মুহুর্তে গোল হজম করে প্রথম ধাক্কা খায়। পরে টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা।

ইতালি সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয় করে ২০০৬ সালে। সে দলের গোলরক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন বুফন। কোচ হিসেবে গাতুসোকে তিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমার পরে যারা আসবে তাদের জন্য আমার উত্তরসূরী বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রেখে যাওয়াই ভালো। জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করা একটা সম্মানের ব্যাপার। এটা এমন এক আবেগের বিষয় যে, ছোটবেলা থেকে আমার কাছে মিশে আছে।
২০১৮ সালে দায়িত্ব নেন গ্রাভিনা
কার্লো টাভেচ্চিওর পরিবর্তে ২০১৮ সালে দায়িত্ব নিয়েছিলেন গ্রাভিনা। কিন্তু দলকে সেভাবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। শুধু তাই নয়, তার সময়ে দলের বিপর্যয় বেড়েছে। ইতালি একটা সাধারণ মানের দলে পরিণত হয়েছে। আগের দুই আসরেও তারা প্লে অফ থেকে বাদ পড়ে। একবার হেরেছে সুইডেনের কাছে। অন্যবার নর্থ মেসিডোনিয়ার কাছে। অবশ্য ২০০৬ সালের পর থেকে বিশ্ব ফুটবলে ইতালির পতন শুরু হয়। ২০১০ ও ২০১৪ সালে ঠিকই তারা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছিল। উভয় আসর তাদের জন্য অংশগ্রহণই বড় কথা- এই বাক্যটাই সঙ্গী হয়েছিল। কেননা উভয় আসরে তারা প্রথম পর্ব থেকে বাদ পড়েছিল।
বিশ্বকাপে ইতালি সর্বশেষ নকআউট পর্বে খেলেছিল ২০০৬। বিশ্বকাপ জয়ের বছরে ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















