ডাকসুর উদ্যোগে ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য হচ্ছে আধুনিক জিম

উন্নত হচ্ছে ক্রীড়া সুবিধা

ডাকসুর উদ্যোগে ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য হচ্ছে আধুনিক জিম

ডাকসুর উদ্যোগে ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য হচ্ছে আধুনিক জিম, ছবি : সংগৃহীত

আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মসজিদ উদ্বোধন ও চলমান সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ভিপি সাদিক কায়েম। পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাকসু নেতারা ঢাবির ক্রীড়াঙ্গনে চলমান কাজের অগ্রগতি, সময়সীমা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে নারীদের জন্য একটি আধুনিক ও সুসজ্জিত জিমনেসিয়াম স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীরা পৃথক ব্যবস্থাপনায় সারাদিন জিম ব্যবহার করতে পারবেন। জিমে ইতোমধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এরপর প্রস্তুত থাকা জিম ইন্সট্রুমেন্টগুলো স্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে, যা নারী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ডাকসু নেতৃবৃন্দ, ছবি : সংগৃহীত

উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে ডাকসু নেতাদের বক্তব্য

পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন,‘গত পাঁচ মাসে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করেছি, অনেক উদ্যোগ সম্পন্ন হয়েছে, কিছু বাস্তবায়নের পর্যায়ে। আমরা কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী এবং আগামী দিনের জন্য আরও উন্নত ক্যাম্পাস রেখে যেতে চাই।’

তিনি আরও বলেন,‘দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা জিমনেসিয়াম আমান গ্রুপের সহায়তায় প্রায় ৬০ লাখ টাকায় কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় মাঠ সংস্কারে প্রায় ২ কোটি টাকার বাজেট এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহযোগীদের সমর্থনে কাজ দ্রুত শুরু হবে। মাঠকে আধুনিকায়ন, ইনডোর জিম উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম সংগ্রহ, সিসিটিভি স্থাপন ও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন ঢাবির ক্রীড়াঙ্গনে চলমান কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন,‘নামাজের জায়গায় বর্ষাকালে ময়লা পানি উঠে যেত, আগে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছিল না। আমরা নামাজের জায়গা এমনভাবে সংস্কার করেছি যাতে খেলাধুলা করতে এসে শিক্ষার্থীরা দ্রুত রিফ্রেশমেন্ট পায়। এজন্য এখানে টাইলসসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি)-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হচ্ছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে তারাবির নামাজও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উন্নয়ন কাজ শেষ হলে মুসল্লিদের জন্য আরও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।’

কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে ডাকসু নেতৃবৃন্দ, ছবি : সংগৃহীত

মাঠ সংস্কারের কার্যক্রম চলমান

খেলার মাঠ উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে প্রাপ্ত ২ কোটি টাকার অর্থায়নে মাঠ সংস্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। প্রাথমিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে। সংস্কারকাজের আওতায় মাঠের মান উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খেলোয়াড়বান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ইনডোর অনুশীলনে যে অসুবিধা তৈরি হয়, তা নিরসনে এডজাস্টার ফ্যান স্থাপনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়েছে। এতে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং খেলোয়াড়রা অধিক স্বাচ্ছন্দ্যে অনুশীলন করতে পারবেন। এছাড়া ইনডোর পরিবেশ আরও মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত করার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নয়নও বিবেচনায় রয়েছে।

খেলার মাঠের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আরমান হোসেন বলেন,‘মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিম পাশের দেয়ালে তারকাঁটা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অনুমোদন পাওয়া গেছে, যা অচিরেই স্থাপন করা হবে। এসব উদ্যোগ মাঠ ও অবকাঠামো সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

উন্নয়ন কার্যক্রমের বিস্তারিত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন, ছবি : সংগৃহীত

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

তিনি আরও বলেন,‘খেলার মাঠের অপব্যবহার রোধে উচ্চ আদালতের রায় প্রকাশিত হয়েছে। মাঠে খেলাধুলা ছাড়া অন্য কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা নিষিদ্ধ। এটি মাঠ সংরক্ষণ ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এছাড়া প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) স্মারক জমা দেওয়ার পর আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে সকল খেলা শুরু হবে বলে জানিয়েছে তারা।

Exit mobile version