`আমি অধিনায়কত্ব উপভোগ করছি’ বলে জানিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মিরপুরে আগামীকাল শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই লড়াই ঘিরে দলের ভেতরে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের সুর। সর্বশেষ টেস্টে আয়ারল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
সেই সিরিজে অভিজ্ঞ উইকেট কিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিম দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করেন। যা ছিল ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত। তবে এরপর সময়টা মোটেও সহজ ছিল না। বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে গত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বিসিবি।
বিশ্বকাপ না খেলা এবং বিসিবির নেতৃত্ব পরিবর্তনের মতো ঘটনাগুলো দলকে অস্থির করে তোলে ক্রিকেট পাড়া। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন উদ্যমে টেস্ট সিরিজে নামছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের স্মৃতি এখনো তরতাজা। সেই সাফল্যই এবারের সিরিজে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। যদিও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন অতীত নয়, বর্তমান প্রস্তুতিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার মতে, সঠিক প্রস্তুতি ও প্রতিদিনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই সাফল্যের চাবিকাঠি।
ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফোকে শান্ত বলেন, ‘আমরা খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। যারা সাদা বলের ক্রিকেটে ছিল না, তারাও দীর্ঘদিন ধরে অনুশীলনে আছে। আমরা যদি প্রতিদিন নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভব।’অধিনায়ক হিসেবে নিজের দায়িত্বও উপভোগ করছেন তিনি এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সহায়তা দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলছে বলে মনে করেন। এছাড়া দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সাফল্য। সবশেষ পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে শক্ত করেছে। যদিও টেস্ট ক্রিকেট আলাদা চ্যালেঞ্জ, তবুও এই জয়ের ধারাবাহিকতা দলের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এই সিরিজে বাংলাদেশের বড় শক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে পেস বোলিং আক্রমণকে। তাসকিন আহমেদের নেতৃত্বে গড়া এই ইউনিটে রয়েছেন নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পারফরম্যান্স নজর কাড়ার মতো। তাসকিন মনে করেন, বাংলাদেশের পেস বোলিং এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময়। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে এখন বেশ কয়েকজন মানসম্মত পেসার আছে, যারা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আমরা নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছি।’
তার মতে, বোলারদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মাঠের বাইরের সম্পর্কও পারফরম্যান্স উন্নত করতে সহায়ক হয়েছে। অন্যদিকে অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজের ওপরও অনেকটা নির্ভর করছে দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের সিরিজে ব্যাট ও বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে তিনি হয়েছিলেন সিরিজসেরা। এবারও তার কাছ থেকে তেমনই অবদান প্রত্যাশা করছে দল। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। দীর্ঘদিন টেস্ট না খেলার কারণে ম্যাচ ফিটনেস, কিছু খেলোয়াড়ের অনিয়মিত ফর্ম এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষ-সব মিলিয়ে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। বিশেষ করে টেস্ট ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
