১২ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরছেন শাকিরা ‘দাই দাই’ গানে

ফিফা বিশ্বকাপে ফিরছেন শাকিরা 'দাই দাই' গানে

১২ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরছেন শাকিরা 'দাই দাই' গানে

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর আর কলম্বিয়ান পপ কুইন শাকিরার সুর এই দুয়ের যেন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০১৪ এর ব্রাজিল বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা তিন আসরে নিজের গানে বিশ্বকে নাচিয়েছেন তিনি। মাঝের দুই আসরে তাঁকে দেখা না গেলেও, ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ১২ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরছেন শাকিরা ‘দাই দাই’ গানে ।

পরপর দুটি আসরে তাঁর অনুপস্থিতি ভক্তদের মনে যে শূন্যতা তৈরি করেছিল, ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সেই আক্ষেপ যেন দূর হতে চলেছে।

দীর্ঘ বিরতির পর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শাকিরা তাঁর নতুন গান ‘দাই দাই’ (Dai Dai) এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটির একটি ছোট টিজার প্রকাশ করেছেন তিনি, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভক্তদের মতে, ফুটবল বিশ্বকাপের আসল আমেজ শুরুই হয় শাকিরার গানের মাধ্যমে। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ যেমন বিশ্বজুড়ে এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটিয়েছিল, নতুন এই গানটিও সেই উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন এই প্রত্যাবর্তন বিশেষ?

শাকিরা বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম নজর কাড়েন ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে ‘হিপস ডোন্ট লাই’ (Hips Don’t Lie) গানের মাধ্যমে। এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তাঁর গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ (Waka Waka) ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ থিম সং হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ‘লা লা লা’ (La La La) গেয়ে গ্যালারি মাতিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর টানা দুটি আসরে (রাশিয়া ও কাতার) তাঁকে দেখা যায়নি। তাই ১২ বছর পর তাঁর এই ফেরা ফুটবল বিশ্বে বড় একটি ঘটনা।

মারাকানায় চিত্রায়ণ ও নস্টালজিয়া

প্রকাশিত টিজারে দেখা গেছে, ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে বল হাতে দাঁড়িয়ে আছেন শাকিরা। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের ম্যাচ বলগুলো প্রদর্শন করে তিনি তাঁর পুরনো সোনালী দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার সংস্কৃতিকে মাথায় রেখেই গানটির আবহ তৈরি করা হয়েছে।

ভিডিওতে শাকিরাকে তাঁর সেই সিগনেচার নাচের ছন্দে দেখা গেছে। এবারের গানে তাঁর সাথে জুটি বেঁধেছেন আফ্রো-বিটস মিউজিকের বর্তমান সেনসেশন বার্না বয় (Burna Boy)। ল্যাটিন পপ এবং আফ্রিকান বিটের এই ফিউশন ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরবে।

বিশ্লেষকদের মতে, শাকিরা কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি বিশ্বকাপের এক অবিচ্ছেদ্য ব্র্যান্ড। টিজারে ব্যবহৃত রঙ এবং আবহ ২০২৬ সালের মেগা ইভেন্টের জৌলুস বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্বকাপের সূচি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

আগামী ১১ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। ফিফা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর ‘এস্তাদিও আজটেকা’ স্টেডিয়ামে শাকিরা লাইভ পারফর্ম করবেন। ফুটবল বিশ্লেষকরা আশা করছেন, শাকিরার অন্তর্ভুক্তি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও বিনোদনমূলক আবেদনকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ভক্তদের মতে, ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই মাঠের লড়াই।  আর শাকিরার গান মানেই সেই লড়াইয়ের জ্বালানি। এখন কেবল অপেক্ষা, ১৪ মে পুরো গানটি মুক্তি পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আবারও সেই ‘ওয়াকা ওয়াকা’র মতো সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে পড়ার।

ফুটবল বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

শাকিরার ফেরার খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর ফিফা কর্তৃপক্ষ এবং বড় বড় ফুটবল তারকারা সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ফুটবলাররা তো বটেই, সাধারণ দর্শকদের কাছেও শাকিরা মানেই বিশ্বকাপের গ্যালারির বাড়তি প্রাণশক্তি।

Exit mobile version