যুদ্ধের ভয়াবহ চিহ্ন মুছে যায়নি একটুও। এখনও গাজার মানুষ আছে যেকোনো মুহূর্তে হামলার আতঙ্কে। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, লম্বা সময় ধরে চলা দখলদার ইসরায়েলের হামলায় অক্ষত নয় কোনো ভবন। এমনকি বেশিরভাগ বাড়িই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝে মাঠে গড়িয়েছে ফুটবল।
ইসরায়েলের হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল গাজা উপত্যকা, ফলে সেখানেই বেশি নৃশংসতার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই অবস্থায় দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ ছিল ফুটবল। সেখানেই আবার যেন প্রাণস্পন্দনের উৎস হিসেবে ফুটবল ফিরে এসেছে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার চার মাস পরও গাজায় কোনো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়নি। ফলে ইসরায়েলি বাহিনী উপত্যকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছে, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ উপকূলবর্তী ধ্বংসস্তূপঘেরা ছোট অংশে গাদাগাদি করে বসবাস করছে। তাদের অধিকাংশই অস্থায়ী তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে থাকেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্প্রতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘ফাইভ-এ-সাইড’ আয়োজিত হয় গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায়। ইট-পাথরের স্তূপে ঘেরা জরাজীর্ণ ফাইভ-এ-সাইড মাঠে জাবালিয়া ইয়ুথ ও আল-সাদাকা মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচটি ড্রতে শেষ হয়। একইভাবে বেইত হানুন ও আল-শুজাইয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচটিও অমীমাংসিত ছিল। তবে ফলাফল নিয়ে হতাশ ছিলেন না দর্শকরা। বেড়া ঝাঁকিয়ে, চিৎকার-উল্লাসে তারা খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন।
খেলোয়াড়দের অনুভূতি
ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন একটি অর্ধেক আকারের মাঠে ধসে পড়া দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে, বেড়া স্থাপন করে এবং পুরোনো কৃত্রিম টার্ফ থেকে ময়লা পরিষ্কার করে খেলার উপযোগী করে তোলে। বেইত হানুনের ৩১ বছর বয়সী ফুটবলার আমজাদ আবু আওদা বলেন, মাঠে নামার মধ্য দিয়ে দলগুলো একটি বার্তা দিতে চেয়েছে। যতই ধ্বংসযজ্ঞ ও যুদ্ধ হোক না কেন, আমরা খেলা এবং জীবন চালিয়ে যাচ্ছি। জীবন থেমে থাকতে পারে না।
জাবালিয়া ইয়ুথের ২১ বছর বয়সী ফুটবলার ইউসুফ জেন্দিয়া কথা বলেছেন ইসরায়েলের হামলা থেকে বেঁচে ফিরে ফুটবল মাঠে ফেরার অনুভূতি নিয়ে। তার বাড়িও ছিল গাজায়, যা ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে প্রায় জনশূন্য ও বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মিশ্র অনুভূতি জানিয়ে ইউসুফ বলেন, ‘দ্বিধান্বিত, খুশি, দুঃখিত, আনন্দিত, আবার খুশি। মানুষ সকালে পানি, খাবার ও রুটির খোঁজে বের হয়। জীবন কিছুটা কঠিন। কিন্তু দিনের কিছুটা সময় থাকে, যখন আপনি এসে ফুটবল খেলতে পারেন এবং ভেতরের কিছু আনন্দ প্রকাশ করতে পারেন।’
সাবেক সতীর্থদের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন, কেউবা আহত–আঘাতের ধকল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ইউসুফের মতে– ‘স্টেডিয়ামে এলে অনেক সতীর্থকে না পেয়ে কষ্ট হয়– কেউ নিহত, কেউ আহত, কেউ চিকিৎসার জন্য বাইরে গেছে। তাই আনন্দটা পূর্ণ নয়।’
