যে চার লড়াইয়ে বিশ্বকাপ ট্রফির ভাগ্য চূড়ান্ত হবে । ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই ক্ষত আজও হয়তো অনেকের মনে দগদগে। প্রায় তিন বছর আগে সন্ধ্যায় এই মাঠেই ভারতে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়েছিল। সেই আহমেদাবাদেই আবার এক বিশ্বমুকুট জয়ের হাতছানি। তবে প্রতিপক্ষ এবার অস্ট্রেলিয়া নয়, তাসমান সাগরের ওপারের দেশ নিউজিল্যান্ড। ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে ভারত। আজ জিতলে প্রথম দল হিসেবে তিনটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড হবে।
সেই সঙ্গে পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয়, আয়োজক দেশ হিসেবে শিরোপা জেতার অনন্য কীর্তিও। সুপার এইটে এই মাঠেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারতে হয়েছিল সূর্যকুমার যাদবদের। কিন্তু সেই মনের ভূত তাড়াতে ভারতীয় দল এবার বেশ সতর্ক। এমনকি কুসংস্কার কি না কে জানে-ফাইনালের আগে টিম হোটেল পর্যন্ত বদলে ফেলেছে বিসিসিআই।
তবে লড়াইটা শেষ পর্যন্ত হবে ব্যাটে-বলে। আর ফাইনাল ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে কয়েকটা ব্যক্তিগত দ্বৈরথে। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন এখন ফিন অ্যালেন। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩ বলে সেই বিধ্বংসী সেঞ্চুরি এখনো সবার চোখে লেগে আছে।
প্রথমত, অ্যালেন মানেই পাওয়ারপ্লেতে বোলারদের কচুকাটা করা। তাঁকে থামানোর মূল দায়িত্বটা থাকবে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র যশপ্রীত বুমরার কাঁধে। যদিও টি-টুয়েন্টিতে বুমরা এ পর্যন্ত অ্যালেনকে বলই করেছেন মাত্র ৫টি। এ দিয়ে কে এগিয়ে, বিচার করা ঠিক হবে না। তবে ফাইনালে বুমরার সেই বিষাক্ত ইয়র্কারের সামনে অ্যালেনের ব্যাট, আহমেদাবাদের দর্শকেরা এই লড়াইয়ের জন্যই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকবেন।
ফর্মে স্যামসন, সামনে চ্যালেঞ্জ হেনরি
দ্বিতীয়ত, সঞ্জু স্যামসন যেন এক আগ্নেয়গিরি। টুর্নামেন্টের শুরুতে সুযোগ না পেয়ে সুপ্ত ছিলেন, এখন তাঁর ব্যাটে লাভা ছড়াচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৭ আর সেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ রানের ইনিংস দুটি বলে দিচ্ছে, সঞ্জু এখন খুনে মেজাজে। আজ তাঁর সামনে বড় বাধা হতে পারেন ম্যাট হেনরি। বিশ্বকাপের ঠিক আগে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এই হেনরিই দুবার আউট করেছিলেন সঞ্জুকে। হেনরির অতিরিক্ত বাউন্স আর সুইংয়ের সামনে সঞ্জুর ব্যাট যেন কিছুটা আড়ষ্ট হয়ে পড়ে। আজ যদি শুরুতেই হেনরি আঘাত হানেন, তবে ভারতের বড় স্কোরের আশা ধাক্কা খাবে।
তৃতীয়ত, মাঝের ওভারগুলোতে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে লড়াই হবে কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের। বাঁহাতি স্পিনে ভারতীয়দের একটু অস্বস্তি আছে। স্যান্টনার সেই দুর্বলতার সুযোগ নিতে চাইবেন। পরিসংখ্যান বলছে, ১০ বার মুখোমুখি হয়ে স্যান্টনার তিনবার সূর্যকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন।
চতুর্থত, উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান টিম সাইফার্ট এবারের কিউই ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা, সবচেয়ে ধারাবাহিকও। ৭ ইনিংসে তিনটি ফিফটি, ২৭৪ রান করেছেন ১৬১.১৭ স্ট্রাইক রেটে। সাইফার্টের স্কুপ শট আটকানো কঠিন কাজ। আর এই কঠিন কাজের জন্যই ভারতের ভরসা হার্দিক পান্ডিয়া। সাইফার্টের আক্রমণের মুখে হার্দিকের স্লোয়ার বা শর্ট পিচ বল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে আহমেদাবাদের ফাইনালটি হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চে ভরা এক বড় লড়াই। ইতিহাস গড়ার সুযোগ নিয়ে মাঠে নামছে ভারত, আর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে প্রস্তুত নিউজিল্যান্ড। ব্যাটে-বলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত দ্বৈরথই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ থাকবে এই হাইভোল্টেজ ফাইনালের দিকে, যেখানে একটি জয়ই লিখে দিতে পারে নতুন বিশ্বকাপ ইতিহাস।
