টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। কোচ জেনারো গাত্তুসো সরে দাঁড়ালেন সেই ব্যর্থতায়। অথচ সর্বশেষ ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ জেতা ইতালি দলের গর্বিত মিডফিল্ডার ছিলেন গাত্তুসো। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক তারকা।
গাত্তুসো সরে দাঁড়ালেন বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে উয়েফা প্লে অফ ফাইনালে হারের দুই দিন পরই। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুই ম্যাচের পর গত জুনে লুসিয়ানো স্পালেত্তির স্থলাভিষিক্ত হন এসি মিলান ও রেঞ্জার্সের সাবেক মিডফিল্ডার গাত্তুসো। ইউরো ২০২৪-এ শিরোপা ধরে রাখার ব্যর্থতা এবং বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারের জেরে স্পালেত্তিকে সরানো হয়েছিল।

বাছাইপর্বের গ্রুপে নরওয়ের চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় হওয়ার কারণে প্লে অফে খেলতে হয়েছে আজ্জুরিদের। সেখানেই বসনিয়ার কাছে পরাজিত হয়ে আরেকবার করুণ পরিণতির শিকার তারা। ম্যাচটি ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে দুটি শট মিস করে ইতালি।
গাত্তুসো সরে দাঁড়ালেন
ভ্যালেন্সিয়া, মার্সেই ও হাদুক স্প্লিটের সাবেক কোচ ইতালির ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে বলেছেন, ‘আমাদের নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আমি জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আমার অভিজ্ঞতার ইতি টানলাম।’
গত দুইবার মর্যাদার বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি। এ কারণেই এবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সাফেল্য পেতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া গাত্তুসোর শরণাপন্ন হয় ইতালির ফুটবল ফেডারেশন। অবশ্য ক্লাব পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্যের অভাব থাকায় গাত্তুসোকে শুরু থেকেই অনেকেই বিতর্কিত পছন্দ হিসেবে দেখেছিলেন। প্লে-অফে বিদায়ের পর সমালোচনা আরও তীব্র হয়, যার পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন এই ইতালিয়ান কিংবদন্তি।
এক বছরেরও কম সময় দায়িত্ব পালন করার পর বিদায় নিতে হলো গাত্তুসোকে। সাম্প্রতিক দুই দশকে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়া ইতালির হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

এই ব্যর্থতার পর ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গাব্রিয়েলে গ্রাভিনাও পদত্যাগ করেন। যদিও জেনিৎসায় ম্যাচের পর গাত্তুসোকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন গ্রাভিনা। তবে জাতীয় দলের জেনারেল ম্যানেজার জিয়ানলুইজি বুফনের বিদায়ের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের পথ বেছে নেন গাত্তুসো।
গাত্তুসোর অধীনে ইতালির পারফরম্যান্স অবশ্য কাগজে-কলমে মোটামুটি ভালোই ছিল। আট ম্যাচে ছয় জয়, এক ড্র ও এক হার; মোট ২২ গোল করে ১০টি হজম করে দলটি।
গাত্তুসো পদত্যাগের বিষয়ে আরও বলেন,‘ফুটবলে নীল জার্সিটি বিশেষ এবং এ কারণেই ভবিষ্যতের জন্য আমি এটিকে নতুন টেকনিক্যাল টিমের হাতে তুলে দিতে চাই। জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ছিল সম্মানের এবং আমি এমন ছেলেদের সঙ্গে কাজ করেছি যারা এই জার্সিতে সবসময় লড়াই করেছে এবং নিজেদের উজার করে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ ভক্তদের এবং সব ইতালিয়ানদের যারা কখনো আমাদের সমর্থন করা বন্ধ করেনি এবং এমনকি শেষ কয়েকটি মাসেও।’
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















