গৌতম গম্ভীরের বিশ্বাস ছিল প্রয়োজনে ঠিকই জ্বলে উঠবেন স্যামসন বলে মন্তব্য করেছেন। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত শেষে করমর্দন পর্ব চলছিল। হাত মেলানোর পাশাপাশি সাঞ্জু স্যামসনের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন কেউ কেউ।
তখন গৌতম গম্ভীর শুধু এটুকুতেই শেষ করলেন না, তাকে বুকে জড়িয়েও রাখলেন বেশ কিছুক্ষণ। অসাধারণ ইনিংসে ভারতের ম্যাচ জেতানোর নায়ক তো কোচের কাছ থেকে এমন উষ্ণ আলিঙ্গন পেতেই পারেন!
ঘরের মাঠে ভারত এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালের আগে বিদায় নিলে গৌতম গম্ভীরকে চাকরি হারাতে হতো অনেকটা নিশ্চিতভাবেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসে দলকে জিতিয়ে বলা যায় কোচের চাকরিও আপাতত রক্ষা করলেন স্যামসন।
কোচের চাকরি বাঁচানোর চেয়েও বড় ব্যাপার ছিল আসলে আরও অনেক কিছু। ভারত পেয়েছিল ১৯৫ রান টপকানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। আভিশেক শার্মা ব্যর্থ হন আরেকবার, ইশান কিশান ও সুরিয়াকুমা ইয়াদাভও সুবিধে করতে পারেননি খুব একটা।
কোনো একজনের ব্যাটে বড় ইনিংস তাই জরুরি ছিল। সেই দাবি মিটিয়েছেন স্যামসন। দ্রুত রান তুলেছেন, উইকেট ধরে রেখেছেন, ক্যারিবিয়ানদের সামনে বাধার দেয়াল হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন।
ম্যাচ শেষে গৌতম গম্ভীর বলেন,
সে বিশ্বমানের ক্রিকেটার, আমরা সবাই জানি সে কতটা ভালো। পুরো ব্যাপারটি ছিল তার পাশে থাকার। দলের যখন সবচেয়ে প্রয়োজন ছিল তাকে… অবশ্যই সেই দিনটি ছিল আজকে… সে সামর্থ্যের সবটুকু মেলে ধরেছে। আমার মনে হয়েছে, ইনিংস জুড়ে কখনোই তার ব্যাটে তাড়া দেখা যায়নি। স্রেফ স্বাভাবিক ক্রিকেট শট খেলে গেছে, পেশির জোরে বল মারার চেষ্টা করেনি। তার প্রতিভাই এমন…।
এছাড়া তিনি বলেন,
সবসময়ই বলে এসেছি সে বিশ্বমানের ক্রিকেটার। আশা করি, এই ইনিংস থেকে সে জ্বলে উঠবে এবং এই ধরনের ইনিংস আরও অনেক দেখতে পারব আমরা।’ সেমি-ফাইনালে পা রাখার পর এখন শিরোপা ধরে রাখা থেকে মাত্র দুই ধাপ দূরে ভারত।
গত দুই ম্যাচে এই দল যেমন খেলেছে, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে, তাতে বলা যায়, টুর্নামেন্টের আসল সময়েই আপন রূপে ফিরছে ভারতীয় দল। গৌতম গম্ভীর যদিও এসব প্রচলিত কথাকে পাত্তা দেন না। এই যুগের কোচ হয়েও পরিসংখ্যান আর তথ্য-উপাত্তে বিশ্বাস নেই তার।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩





















