এক ম্যাচে ২৪ লাল কার্ডের ইতিহাস! ফিফা বিশ্বকাপের আগেই এবার ফ্রান্সের অপেশাদার ফুটবলে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেল। মরবিহানে একটি আঞ্চলিক ডার্বি রূপ নিলো চরম বিশৃঙ্খলায়। তারপর গণমারামারি, পুলিশের হস্তক্ষেপ। একবারেই ২৪ লাল কার্ড।
স্থানীয় ফুটবলের ইতিহাসে এই ঘটনাকে ‘কলঙ্ক’হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। আভেনির দে গুইলে ও ইন্দেপেন্দান্ত দে মোরোনের মধ্যকার আঞ্চলিক দ্বিতীয় সারির লিগ ম্যাচে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজতেই বিশৃঙ্খলার নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
প্রথমে দুই দলের ভক্তদের মধ্যে বিবাদ হয়। তারপর দ্রুত সেটা খেলোয়াড় ও একজন অভিভাবককে জড়িয়ে গণমারামারিতে রূপ নেয়। মোরোনের এক খেলোয়াড়ের বাবা তার ছেলেকে বাঁচাতে মাঠে ঢুকে পড়েন।
আর সেখান থেকে বাগবিতণ্ডা, তারপর ধাক্কাধাক্কি-হাতাহাতি এবং মাথায় আঘাত। এই ঘটনায় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া ছিলেন রেফারি। তাই সম্ভাব্য চরম পদক্ষেপ নিয়ে তিনি ম্যাচে অংশ নেওয়া ২৭ খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৪ জনকে লাল কার্ড দেখান।
ফ্রান্সের মাঠে এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি। এর আগে গত মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ব্রাজিলে ক্রুজেইরো ও অ্যাতলেতিকো মিনেইরোর শিরোপার লড়াই শেষে খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কির পর রেফারি ২৩ লাল কার্ড দেখান।
ফ্রান্স ফুটবলের বিশৃঙ্খলা তাকে ছাড়িয়ে গেল। তবে ফুটবলের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৬ জন লাল কার্ড দেয়ার রেকর্ডও আছে। ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আর্জেন্টিনার দুই দল এর মধ্যকার এক ম্যাচে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি লাল কার্ডের রেকর্ড গড়ে।
ম্যাচের শেষ দিকে তীব্র সংঘর্ষ ও মারামারি ছড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারি একে একে সব খেলোয়াড় ও বদলি সদস্যদের লাল কার্ড দেখান। মোট ৩৬টি লাল কার্ড দেওয়া হয়, যা এখনো বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত। এই ঘটনা ফুটবলে শৃঙ্খলার গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে আনে।
