২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। আহমেদাবাদ যেন ক্রিকেট শিরোপা উৎসবের নগরী হয়ে উঠেছে। যদিও ২০২৩ সালে স্বাগতিক ভারত ট্রফি জিততে পারেনি। এবার ভারতীয় ভক্ত-সমর্থকদের ঢল নেমেছে আহমেদাবাদে টি-২০ বিশ্বকাপ ট্রফি ভারতের ঘরে থাকবে সেই আশায়। আর দর্শকদের অত্যধিক চাপে আহমেদাবাদে হোটেল ভাড়া বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ শতাংশ।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শক গ্যালারিতে বসতে পারেন। স্বাগতিক ভারত এবার এই স্টেডিয়ামে টি-২০ বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখার মিশনে নামবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে সূর্যকুমার যাদবদের অকুণ্ঠ সমর্থন দিতে আসা ভক্তদের ঢলে আহমেদাবাদ হয়ে গেছে লোকে-লোকারণ্য।

দর্শকদের চাপে হোটেলগুলোর অবস্থা
অজস্র মানুষের হঠাৎ এই চাপে শহরের হোটেল ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে রুম ভাড়া বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত। গুজরাটের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নরেন্দ্র সোমানি জানিয়েছেন, ম্যাচের কারণে হোটেলের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। আগে যে কক্ষগুলোর ভাড়া ছিল প্রায় ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার রুপি, সেগুলোর ভাড়া এখন ১৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত উঠেছে।
কিছু বিলাসবহুল হোটেলে ভাড়া আরও বেশি বেড়েছে। সিন্ধু ভবন রোডের তাজ স্কাইলাইন আহমেদাবাদ হোটেলে দুইজনের একটি ডিলাক্স রুম ম্যাচের আগের রাতে প্রায় ২ লাখ ১ হাজার রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছে। সাধারণ দিনে যেখানে একই কক্ষের ভাড়া থাকে প্রায় ৯ থেকে ১৫ হাজার রুপি।
একইভাবে আশ্রম রোডের আইটিসি হোটেলের রুম ভাড়া প্রায় ২০ হাজার রুপি দেখাচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া হায়াত রিজেন্সি আহমেদাবাদ হোটেলে রাতে কক্ষভাড়া প্রায় ৩০ হাজার রুপি, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ।

আহমেদাবাদ শহরে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার হোটেল কক্ষ রয়েছে। বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি বিগ ম্যাচ এখানে হওয়াতে ক্রিকেট ভক্তদের উপস্থিতি আগে থেকেই ছিল। এখন ফাইনাল। ম্যাচের আগের দিনই হোটেলগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ দখল হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হোটেলের দাম বেশি হওয়ায় অনেক দর্শক বিকল্প ব্যবস্থা বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আহমেদাবাদ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের গান্ধীনগরে থাকছেন। আবার অনেক দর্শক ম্যাচ দেখে সেদিনই নিজ শহরে ফিরে যাচ্ছেন।
মুম্বাইসহ আশপাশের শহর থেকে অনেক ভক্ত গাড়ি নিয়ে সকালে আহমেদাবাদে এসে সরাসরি স্টেডিয়ামে যাচ্ছেন এবং ম্যাচ শেষে রাতেই ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।
বেড়েছে বিমান ভাড়াও
শুধু হোটেল নয়, বেড়েছে বিমান ভাড়াও। মুম্বাই–আহমেদাবাদ রুটে সাধারণত যেখানে ভাড়া থাকে প্রায় ৩ হাজার রুপি, এখন তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৭ হাজার রুপি হয়েছে। দিল্লি থেকে আহমেদাবাদের টিকিট প্রায় ১৪ হাজার রুপি, আর বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ১৩ হাজার রুপি পর্যন্ত উঠেছে।
দর্শকদের এই চাপ সামাল দিতে বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা টার্মিনাস থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত একটি এসি সুপারফাস্ট বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি থেকেও একটি বিশেষ ট্রেন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্রিকেটপ্রেমীরা সহজে ফাইনাল দেখতে যেতে পারেন।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














