চণ্ডিগড়ে বৈভব সূর্যবংশী তাণ্ডবে হায়দরাবাদের বিদায় ঘটেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে। বুধবার এলিমিনেটর ম্যাচে সূর্যবংশীর দল রাজস্থান রয়্যালস ৪৭ রানে হারিয়ে দেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। এখন রাজস্থান দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে খেলবে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্লে-অফ নিশ্চিত করা রাজস্থানের বিস্ময় ওপেনার সূর্যবংশীর তাণ্ডবে হায়দরাবাদের বিদায় নিতে হয়েছে এলিমিনেটর ম্যাচে। অথচ তৃতীয় স্থানে থেকে রাজস্থানের আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত করে হায়দরাবাদ।
সূর্যবংশী তাণ্ডবে হায়দরাবাদের বিদায়, রাজস্থান ফাইনাল রেসে
এবার ফাইনালে ওঠার রেসে দুই দল মুখোমুখি হয়। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজস্থান রীতিমতো উল্কাবেগে রান তোলে। এর পেছনে মূলত সূর্যবংশীর ব্যাটিং তাণ্ডব বড় ভূমিকা রাখে। এ কিশোর- বিস্ময় মাত্র ১৬ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারেই রাজস্থান ৮০ রান তোলে।
ধীরস্থির যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে ১২৫ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন সূর্যবংশী। ৮ম ওভারের শেষ বলে তিনিই সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ২৯ বলে ৫টি চার ও ১২টি ছক্কায় ৯৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন সূর্যবংশী আরেকটি সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ নিয়ে।
সূর্যবংশীর রেকর্ড
তবে এদিন ক্রিস গেইলের একটি রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএলের এক মৌসুমে ৫৯টি ছক্কায় হাঁকানোর রেকর্ড গড়েছিলেন সাবেক এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার। চলতি আসরে ৬০টি ছক্কা হাঁকিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন সূর্যবংশী।
এখন সূর্যবংশীর চলতি আসরে ছক্কার সংখ্যান ৬৫টি। ২০১২ সালের আইপিএলে গেইল ৪৫৬ বল খেলেছিলেন ৫৯টি ছক্কা হাঁকাতে। সেদিকে থেকেও অনেক এগিয়ে সূর্যবংশী, তিনি মাত্র ২৬৬ বলেই ৬০ ছক্কায় পৌঁছেন।
১১তম ওভারে জয়সওয়াল ২৯ বলে ৪টি চারে ২৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তবে পরের দিকে ধ্রুব জুরেল ২১ বলে ৫টি চার, ৩টি ছক্কায় ৫০ এবং রিয়ন পরাগ ১২ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২৬ রান করেন।
২০ ওভারে আট উইকেটে ২৪৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় রাজস্থান। প্রফুল হিঙ্গে ৩টি উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে জোফরা আর্চারের পেস তোলে দ্বিতীয় বলেই অভিষেক শর্মারে (০) উইকেট হারায় হায়দরাবাদ। দ্বিতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটিও ভেঙে দেন তিনি ১১ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৩ রান করা ইশান কিষাণকে সাজঘরে ফিরিয়ে।
পরে ট্রাভিস হেডকেও (৮ বলে ১৭) শিকার করেন আর্চার। মাত্র ৮১ রানে ৫টি উইকেট হারায় হায়দরাবাদ। এরপর নীতিশ কুমার রেড্ডি ২০ বলে ৩টি চার, ২টি ছক্কায় ৩৮ এবং সলিল অরোরা ২১ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৩৫ রান করলে তা শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে।
১৯.২ ওভারে ১৯৬ রানে গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদের ইনিংস। আর্চার ৩টি এবং নান্দ্রে বার্গার, সুশান্ত মিশ্র ও রবীন্দ্র জাদেজা ২টি করে উইকেট নেন। এই জয়ে ফাইনালে ওঠার রেসে থাকল রাজস্থান। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাটকে হারাতে পারলেই তারা উঠে যাবে ফাইনালে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজস্থান- ২৪৩/৮; ২০ ওভার (সূর্যবংশী ৯৭, জুরেল ৫০, জয়সওয়াল ২৯, পরাগ ২৬; প্রফুল ৩/৫৪, রেড্ডি ১/১২)।
হায়দরাবাদ- ১৯৬/১০; ১৯.২ ওভার (রেড্ডি ৩৮, সলিল ৩৫, কিষাণ ৩৩, শিভং ২৭; আর্চার ৩/৫৮, জাদেজা ২/২১, সুশান্ত ২/২১, বার্গার ২/২৬)।
ফল : রাজস্থান রয়্যালস ৪৭ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : বৈভব সূর্যবংশী।
